আজ শুক্রবার| ২৯শে মে, ২০২০ ইং| ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ২৯শে মে, ২০২০ ইং

ছোট্ট শিশুদের এই উদ্যোগ হতে পারে দৃষ্টান্ত

নিজেদের ঈদ সালামির টাকা প্রতিবেশী সহপাঠী বন্ধুদের মাঝে বিলিয়ে দিলো ছোট্ট শিশু মম ও রোহান

শনিবার, ২৩ মে ২০২০ | ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ | 86 বার

নিজেদের ঈদ সালামির টাকা প্রতিবেশী সহপাঠী বন্ধুদের মাঝে বিলিয়ে দিলো ছোট্ট শিশু মম ও রোহান

মো: ইব্রাহীম হোসাইন: কালে কালে ও যুগে যুগে কতই না কিছু ঘটে যাচ্ছে এই ধরাতে। পশুপাখি জীবজন্তু ও মানুষ অনেকেই এরকম কিছু দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন সমাজের মাঝে। যা মানুষ সারা জীবন ধরে মনে রাখে। আবার অনেক কিছু ইতিহাস হয়ে থাকে পৃথিবীর বুকে। জীবের প্রতি প্রেম মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই প্রেম প্রীতি বন্ধন। মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য। তা আবারো প্রমাণ করলো ছোট্ট দুই সোনা মনির বিরল এই উদ্যোগে। এমনি অবাক করা কান্ড ঘটে গেল শরীয়তপুর নড়িয়ায়।

ছোট্ট শিশু মম বয়স তার মাত্র ৭ বছর। এতটুকু বয়সে কতটুকুই না বোঝে বা বুঝার মত কি এমন বয়স হয়েছে। তবুও অন্য সবার চাইতে আলাদা কিছু করার ইচ্ছা পোষণ এবং তা করেও দেখালো মম। আরেক ছোট্ট শিশু রোহান তার বয়স মাত্র ১০ বছর ক্লাস ফোরের পড়েন তিনি। মম তার ছোট বোন প্রথম শ্রেণীতে পড়ে।

রোহান ও তার ছোট বোন মম তাদের ঈদ সালামির টাকা তুলে দিচ্ছে প্রতিবেশী বন্ধুর হাতে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাবা-মা, কাকা-কাকি, দাদা-দাদি, মামা-মামি, খালা-খালু, ফুফু-ফুফা সহ নিকট আত্মীয় স্বজন ঈদ উপলক্ষে রোহান ও মম কে দিয়েছিলেন ঈদ সেলামি। এতে তাদের ২০ হাজার টাকা জমেছিল। তাদের সেই জমানো টাকা ভাগ করে দিলেন এলাকা ও পাড়া-প্রতিবেশী ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মাঝে। তাদের ঈদ সালামি বা ঈদ বোনাসের টাকা গরীব অসহায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মাঝে বিতরণ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করল রোহান ও মম।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহমদ সিকদার এর বড় ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিকদার। তার ১০ বছরের ছেলে রোহান ও ৭ বছরের মেয়ে মম তাদের ঈদ সালামি সকল টাকা পাড়া-প্রতিবেশী গরীব অসহায় দুস্থ পরিবারের ছোট ছোট শিশুদের মাঝে ঈদ উপলক্ষে বিতরণ করেছে।

তাদের এমন উদ্যোগে অবাক এলাকাবাসীসহ স্থানীয় লোকজন। তাদের এমন উদ্যোগে সবাই মহান আল্লাহতালার কাছে তাদের আগামী উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়াও করেছেন অনেকে। ওদের এই মানসিকতাকে দৃষ্টান্ত বলে এদিকে শিক্ষা গ্রহণের কথা বলছেন অনেক সচেতন মানুষ।

রোহান ও মমর বাবা শহিদুল ইসলাম শিকদার বলেন, গতকাল হঠাৎ করে রোহান আমাকে বলছে, বাবা আমি আমার ঈদ সালামির টাকা আমার এলাকার পাড়া-প্রতিবেশী গরিব ছোট্ট বন্ধুদের দিতে চাই। যারা টাকার অভাবে ঈদের জামা কাপড় ও সেমাই চিনি কিনতে পারে না তাদেরকে। ওর কথা শুনে আমি অনেক সময় চুপ করে ভাবছিলাম এবং নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করছি লাম। পরে বললাম ঠিক আছে তো আমার কি করতে হবে। তখন রোহান বলল, মমত অনেক টাকা পেয়েছে ঈদ সালামি তুমি ওকে জিজ্ঞেস করো ওটাও কি দিবে? পরে আমি বললাম তুমি মামাকে বলো যে আমি এটা করতে চাই তুমি করবে কিনা দেখো কি বলে। পরে মম রাজি হল এবং দুজনের সালামের জমানো ২০ হাজার টাকা আশপাশের গরীব অসহায় ছোট্ট ছেলে মেয়েদের মাঝে বিতরণ করল। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ওরা ওই টাকা গুলো খামে ভরে এবং নিজ হাতে নাম লিখে সকলের মাঝে বিতরণ করেছে। আমি আছি পাশে সকল ছেলে মেয়েদের বাড়িতে ডেকে এনে সিরিয়াল করিয়ে দেই এবং ওরা নিজ হাতে প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে খামে ভরে বিতরণ করেছে।

পরিশেষে আমি সকলের কাছে আমার এই ছেলেমেয়েদের জন্য দোয়া চাচ্ছি। আপনারা সবাই ওদের জন্য দোয়া করবেন ওরা যেন বড় হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে। ওদের সারাটা জীবন যেন গরিব অসহায় ও এলাকার সকল মানুষের তরে ব্যয় করতে পারে।

ছোট্ট রোহান বলে, এখন তো করোনার জন্য আমরা স্কুলে যাই না। সারাক্ষণ বাসায় থাকি এবং আশেপাশের বন্ধুদের সাথে বাড়িতেই খেলাধুলা করি। আমি যখন আমার বন্ধুদের বলতেছিলাম আমি এবার ঈদ সালামি এত টাকা পেয়েছি। তখন আমার এক প্রতিবেশী বন্ধু বলে, আমার বাবার কোনো কাজ নেই, অনেকদিন যাবত বাড়িতেই বসে আছি। তাই আমাদের কোনো টাকা-পয়সা নাই এজন্য কোন কিছু কিনতে পারবো না। তাছাড়া আমাদের এরকম ঈদ সালামি দেওয়ার মত কেউ নাই। তখন আমি খেলা শেষে বাসায় এসে মাকে বললাম, ইসলামের কিছু টাকা পাশের বাড়ির আমার এক বন্ধুকে দিতে চাই ঈদে কিছু কেনার জন্য। তখন মা বলল শুধু ওকে দিলেই হবে আরো কয়েকজন আছে তাইলে সবাইকে দাও। তখন আমি বললাম ঠিক আছে তাহলে। আমরা তো সবসময় কিনতে পারি। তাই এলাকার সকল বন্ধুদের ডেকে বললাম, তোমরা কালকে আমাদের বাসায় এসো তোমাদের কে গিফট দিব। পরে আজ সকালে আমি তাদের মাঝে এ টাকা গুলো ভাগ করে দেই। এতেও না অনেক খুশি হয়েছে।

রোহানের মা বলেন, রোহান আমাকে হঠাৎ করে ওই দিন বলল মা আমার ঈদ সালামি টাকা আমি আমার আশেপাশে ছোট্ট বন্ধুদের দিতে চাই। ওদের নাকি টাকার জন্য কিছু কিনতে পারছে না আমার বিষয়টা অনেক খারাপ লেগেছে। তখন আমি বললাম ঠিক আছে তাহলে দাও। তখন রোহান ও মম ঈদের ঈদ সালামি টাকা সকলের মাঝে ভাগ করে দিয়েছে। এটা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের মনে হয়েছে এবং ওদের এই মহৎ কাজে আমার বুকটা আনন্দে ভরে গেছে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রোহানের ছোট চাচা নয়ন সিকদার বলেন, আমার ভাতিজা রোহান বয়স ১০বছর চতুর্থ শ্রেনীতে পরে ও ভাতিজি মম বয়স ৭ বছর প্রথম শ্রেনীতে পরে। তারা ঈদের শপিং না করে সেই টাকা দিয়ে বাড়ির আঁশে পাশের গরিব বন্ধু বান্ধব ,খেলার সাথী ও সহপাঠিদের মাঝে নগদ ২০০টাকা করে প্রায় ১০০ জনকে বিতরন করেছে। ওদেরকে দান এবং ত্যাগ আমাদের কি শিক্ষা দিল। ওদের জন্য সবাই দোয়া করবেন। ওরা জেন সব সময় এই ভাবে সব শ্রেনীর মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকতে পারে।

শেয়ার করুন-Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: Content is protected !!