আজ শনিবার| ১১ই জুলাই, ২০২০ ইং| ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ১১ই জুলাই, ২০২০ ইং

বাক প্রতিবন্ধী পুত্র বধু শশুর দ্বারা ধর্ষনের শিকার! ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা!!

শনিবার, ২৭ জুন ২০২০ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | 209 বার

বাক প্রতিবন্ধী পুত্র বধু শশুর দ্বারা ধর্ষনের শিকার! ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা!!

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানায় এক বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে (২৩) তার শশুর বারেক সরদার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূ অন্তঃসত্ত¡া হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জুনের প্রথম সপ্তাহে সালিস বৈঠকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ৭ লাখ টাকায় মিমাংসা করে স্থানীয় মাতব্বররা।

শরীয়তপুরের কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনাটি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থলে যায় এবং সখিপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে সন্ধ্যায় গৃহবধূর চাচা বাদী হয়ে বারেক সরদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বারেককে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে তাকে শরীয়তপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পাশাপাশি ওই গৃহবধূকে পুলিশের তত্বাবধানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরিক্ষার আনা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই গৃহবধূকে তার শশুর প্রায়ই ধর্ষণ করত। স¤প্রতি ওই গৃহবধূর আট মাসের অন্তঃসত্ত¡ার বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতব্বররা সালিস বৈঠকে অভিযুক্ত বারেক সরদারকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং তার একটি টিনের ঘর ভেঙে নেয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় গৃহবধূর চাচা বাদী হয়ে বারেক সরদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বারেককে আটক করে পুলিশ।

গৃহবধূর চাচা জানান, স্থানীয় মাতব্বররা এ বিষয় নিয়ে এক দফা বৈঠক করেন। বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা ও একটি টিনের ঘরের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসা করেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তির টিনের ঘরটি ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় ও ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা জমা দেয় স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে। যা ওই গৃহবধূর ব্যাংক একাউন্ডে জমা করা হবে। আর বাকি টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় দেয়া হয়। সঠিক বিচার পেতে মামলা করেছেন তিনি।

স্থানীয় মাতব্বর মাওলানা আনোয়ার বালা (রোমান) বলেন, গ্রাম্য সালিসের বৈধ্যতা আছে। তাই সখিপুর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে, ওই গৃহবধূর কথা চিন্তা করে, স্থানীয় খোকা বালার বাড়ির ঘাটায় সালিস বসিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি ঘর ও ৭ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। সালিস বৈঠকে আমি, চরসেনসাস ইউনিয়নের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান রফিক বালা, আরশি নগর ইউনিয়নের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান নাবিল বালাসহ অন্তত এক হাজার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান (শরীয়তপুর) অ্যাডভোকেট রওশন আরা বেগম বলেন, ঘটনাটি সালিস দরবারের বিষয় না। এটা আইনী বিষয়। মাদব্বররা যে কাজটি করেছে অন্যায় করেছে। আমরা চাই অপরাধির সঠিক বিচার হোক।

আসামী ধর্ষক কারি স্ত্রীর রাহিমা বেগম বলেন , আমার সামীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। গ্রামের মরুব্বিদেয় রায় মানতে হয় এজন্য মেনে গেছি । এখন খাবার খাইতে পারি না । আমার ছেলের বউ ছয় মাস আগে ঢাকা চলে গেছে ।এখন এসে বলে আপনার ছেলের বউ শাহারিয়া আক্তারের সাত মাসের গর্ববতী তখন শুনতে পাই। স্বামীকে কখনও খারাপ কাজ করতে দেখি নাই বা শুনি নাই। মেয়ের বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক এনেছিলাম ছেলেকে বিদেশ পাঠাবো বলে। গ্রামের মরুব্বিরা আমাদের ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেছে দরবারে রায় হয় ৭লাখ টাকা একটি ঘর । এর মধ্যে নগত ৩ লাখ ৬০হাজার টাকা ও একটি ঘর নিয়েগেছে সাবেক চেয়ারম্যান রফিক বালা , প্যানেল চেয়ারম্যান আসিনগর ইউনিয়ন নাবিল বালা, মাওলানা আনোয়ার হোসেন নোমান সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থীত থেকে এরায়দেন। তাদের কথা আমাদের না শুনে আমাদের উপায় নাই।।

সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির চাচা বাদী হয়ে মেয়েটির শশুরের বিরুদ্ধে সখিপুর থানায় নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইনে মামলা করেছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিকে শুক্রবার দুপুরে শরীয়তপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: Content is protected !!