আজ শনিবার| ১১ই জুলাই, ২০২০ ইং| ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ১১ই জুলাই, ২০২০ ইং

মানবিক মানুষ মহম্মদপুরের ইউএনও মিজানূর রহমান

শনিবার, ২৭ জুন ২০২০ | ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | 41 বার

মানবিক মানুষ মহম্মদপুরের ইউএনও মিজানূর রহমান

মুরাদ হোসেন (মাগুরা) থেকে : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানূর রহমানকে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে মনে করেন এলাকার জনসাধরণ। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার খাদ্যসামগ্রী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ঘরবন্দি কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে নিজে ঝুঁকি নিয়ে বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি উপজেলার যে কোনো এলাকা থেকে অসহায় কোনো মানুষ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার বা নিদিষ্ট নম্বরে ফোন দিলে নিজে অথবা স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে সহায়তা পৌছে দিয়েছেন।
জানা যায়, মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সংক্রমণ প্রতিরোধ ও উপজেলায় ঘরবন্দি অসহায় দিনমুজুর খেটে খাওয়া মানুষের সহযোগিতার জন্য দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানূর রহমান। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলেছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। জনগণকে সচেতন করতে এলাকার বিভিন্ন হাট বাজারে মাইকে করা হয়েছে প্রচার-প্রচারণা।

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার পাশাপাশি উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষকে সহায়তার জন্য উপজেলার মধ্যে বনজঙ্গণ হয়ে ৪০ বছর ধরে পড়ে থাকা জমিতে চাষ করেছেন নানা প্রকার সবজি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আবাদকৃত সবজি বাগান থেকে প্রতিনিয়ত সবজি সহায়তা পাচ্ছেন এলাকার ৪০ থেকে ৫০টি অসহায় পরিবার।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সকল ধরণের সহায়তা সঠিক বন্টনের জন্য ইইনিয়নভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানূর রহমান। নিজে এবং এই স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে প্রকৃত ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সহায়তা। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধি এবং মাতৃকালিন ভাতা চলমান রয়েছে। আর এতেই তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার জনসাধরণের কাছে একজন মানবিক মানুষ।

সুবিধাভোগি সজিব হোসেন বলেন, স্যার অনেক ভালো মানুষ। করোনার এই দূর্দিনে ইউএনও মোঃ মিজানূর রহমান স্যারের কাছে এসে কেউ খালি হাতে ফেরত যায়নি আমি নিজেও সহযোগিতা পেয়েছি। জাঙ্গালিয়া গ্রামের জবেদা বেগম বলেন, স্যারের সবজি ক্ষেত থেকে প্রায় প্রতিনিয়ত সবজি নিচ্ছি। আমার মতো এলাকার অসহায় অনেকেই এই সবজি সহায়তা পচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার পরিবারের মাঝে ১০৯ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং চলতি মাসের শেষের দিকে প্রতি ইউনিয়নে ১২ মেট্রিক টন চাল ১২শ পরিবারের মাঝে প্রতিটি ইউপি’র চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

আরো জানান, মাথাপিছু ২ হাজার ৫শ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য উপজেলার ১০৫০০ টি পরিবারের তারিকা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনেকে টাকা পেয়েছেন এবং পর্যায়ক্রমে সবাই পাবেন বলেও জানা যায়। এছাড়াও ভিজিডি কার্ডধারী ১৮১০টি পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজী করে চাল এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০টাকা কেজী ধরে ৩০ কেজী করে চাল ৬৫৬৭ টি পরিবারের মাঝে মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর বছরের এই পাঁচ মাস বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানূর রহমান বলেন, সরকারি একজন কর্মচারী হিসেবে দাপ্তরিক কাজ আমার পবিত্র দায়িত্ব। আর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো মানবিক দায়িত্ব। এই মানবিকতায় অসহায়কে খাদ্য সহায়তা, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনা করা এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণসহ নানা কারণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে মাঠে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে বিতরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: Content is protected !!