আজ বুধবার| ১২ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ বুধবার | ১২ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ডুবোচর খননের মাধ্যমে পদ্মা নদীর গতিপথ পরিবর্তন: ভাঙগনের আশংকা কমেছে শরীয়তপুরে

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০ | ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | 193 বার

ডুবোচর খননের মাধ্যমে পদ্মা নদীর গতিপথ পরিবর্তন: ভাঙগনের আশংকা কমেছে শরীয়তপুরে

ভোরের সংবাদ ডেক্স: শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভাঙ্গছে শরীয়তপুরের পদ্মা তীরবর্তী এলাকা। ২০১৮ সাল পর্যন্ত পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি পরিবারের বাড়ি-ঘরসহ, হাসপাতাল, ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, খাল-বিল, জলাশয় ও অসংখ্য কাচা-পাকা স্থাপনা। তবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে বেঙ্গল গ্রæপের সুদক্ষ পরিচালনায় সব হারানোদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস যোগাচ্ছে পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধ। প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৪৫ শতাংশ ডুবোচর খননের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় নতুন মাত্রা পেয়েছে ভাঙ্গন রোধের কাজ। পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হাক শামীম জানিয়েছেন, নদী খননের মাধ্যমে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় দীর্ঘদিনের ভাঙ্গন আতংক কেটে স্বস্তি ফিরেছে শরীয়তপুরের পদ্মা পাড়ের মানুষের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্মরণকালের ভয়াবহ ভাঙ্গন ছিল শরীয়তপুরের নড়িয়া-জাজিরায়। ২০১৮ সাল পদ্মার পর্যন্ত পদ্মার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ২০ হাজারেরও অধিক পরিবার। বিলীন হয়েছে কহুতল ভবন, বাড়ি-ঘর, হাট-বাজার, ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, স্কুল, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও কাচা-পাকা স্থাপনাসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান। পদ্মার ভাঙ্গন রোধে ২০১৮ সালে এক হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয় পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাজ। ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যে বাঁধের ৪২ শতাংশ ও চর অপসারনের ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছে বেঙ্গল গ্রæপ। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ শতাংশ ডুবোচর অপসারনের ফলে রক্ষা বাঁধ পেয়েছে নতুন মাত্রা।

বেঙ্গল গ্রæপের পিডি মেজর (অব:) মৃধা রেজাউল করিম বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এর দেয়া সময় সীমার মধ্যেই লক্ষমাত্রানুযায়ী নির্ধারিত নদী খনন ও বøক এবং জিওব্যাগ ডাম্পিং সুদক্ষতার সহিত সম্পন্ন করে কাজের অগ্রগতি বাড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে বেঙ্গল গ্রæপ। তাই আসছে বর্ষা মৌসুমে শরীয়তপুরবাসীকে নদী ভাঙণের হাত থেকে পরোপুরি রক্ষায় ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যে বাঁধের ৪২ শতাংশ ও চর অপসারনের ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছে বেঙ্গল গ্রæপ। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ শতাংশ ডুবোচর অপসারনের ফলে রক্ষা বাঁধ পেয়েছে নতুন মাত্রা।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. আহসান হাবিব, নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙণ থেকে নড়িয়া-জাজিরার মানুষকে রক্ষা করতে পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাজের লক্ষমাত্রা অনুযায়ী এবছর পদ্মার বামতীরে ড্রেজিং করে ডুবোচর কেটে আমরা একটি চ্যানেল তৈরী করতে সক্ষম হয়েছি। তাই এ বছর নদীর স্্েরাত মাঝ নদীতে চলে গেছে। এতে করে স্থায়ী বাধে ভাঙন ঝুঁকি অনেক আংশে কমেছে। আশা করি আসছে বর্ষা মৌসুমে মুল বেড়িবাঁধ ভাঙনের কোন সংঙ্কা নেই। ইনশাহ আল্লাহ্ এ বছর আমরা নড়িয়া জাজিরাবাসীকে ভাঙণের হাত থেকে রক্ষা করতে পরবো।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, সারা দেশে চলমান করোনা মহামারির মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়িয়া-জাজিরাবাসীকে নদী ভাঙণের হাত থেকে রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যে বাঁধের ৪২ শতাংশ ও চর অপসারনের ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছে বেঙ্গল গ্রুপ। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ শতাংশ ডুবোচর অপসারনের ফলে রক্ষা বাঁধ পেয়েছে নতুন মাত্রা।

শেয়ার করুন-Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: Content is protected !!