আজ রবিবার| ৯ই আগস্ট, ২০২০ ইং| ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ৯ই আগস্ট, ২০২০ ইং

শিবগঞ্জে সৈনিক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২০ | ৭:২৭ অপরাহ্ণ | 47 বার

শিবগঞ্জে সৈনিক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আবদুল হামিদ নামে র‌্যাবের এক সৈনিকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আবদুল হামিদ র‌্যাব সদর দপ্তরের এ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স উইং শাখায় সৈনিক পদে কর্মরত রয়েছেন। যার সৈনিক নম্বর ২৪১৫৬৯৪। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা মাদ্রাসা মোড় এলাকায়। পিতা হাফিজুদ্দিন মন্ডল। স¤প্রতি তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম। পাশাপাশি রোববার (১৯ জুলাই) প্রতিকার চেয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন স্বামীর বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। স্বামীর নির্যাতনে কয়েকবার হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। তারপরও থামেনি নির্যাতন। প্রতিবাদ করায় দেয়া হয় হত্যার হুমকি।

এ অভিযোগেই চলতি বছরের পহেলা মার্চ শিবগঞ্জ থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে নির্যাতিতা স্ত্রী। যার মামলা নং-৫/১৮১, তারিখ ০১-০৩-২০২০। নির্যাতনের শিকার স্ত্রীর বাড়ি একই জেলার শিবগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড জালমাছমারী এলাকায়। পিতার নাম মো. খলিলুর রহমান। অভিযোগে জানা গেছে- আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে দফায় দফায় মারধর করানোর দাবি করেছেন সাদিয়া ইসলাম। তিনি লিখেছেন, ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিয়ের পর যৌতুকের দাবি করে আসছিল আবদুল হামিদ। দাবি মতো যৌতুক দিতে না পারায় সাদিয়ার ওপর বারবার নেমে আসতো নির্যাতন। মারধরে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগে তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে আসামির যৌতুকলোভী এবং অত্যাচারী মনোভাব প্রকাশ পেতে থাকে। আসামি বিভিন্ন সময় আমাকে আমার বাবার কাছ থেকে নগদ টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকে। টাকা না দিতে চাইলে আসামি আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। নির্যাতনের ভয়ে আমি বাবার কাছ থেকে প্রায়ই নগদ টাকা এনে আসামিকে দিতাম।

এছাড়া আসামির চাহিদা অনুযায়ী ২৩ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি, ৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল ও ২ লাখ মূল্যের বিভিন্ন আসবাবপত্র-ইলেকট্রনিক সামগ্রী আমার বাবা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু তার লোভ থেমে থাকেনি। আসামি আমার কাছে আরো ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমার বাবা এতো টাকা দিতে না পারায় আসামি আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রæয়ারী মাসে আমি পড়াশুনার জন্য পিতার বাড়িতে আসি। পরে আমার পিতার বাড়িতে এসে আসামি আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যাবার কথা বলে ২ লাখ টাকা যৌতুক চাইলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি’।

টানা তিন বছর ধরে নিজ পিতা-মাতার বাড়িতেই অবস্থায় করেছেন নির্যাতনের শিকার সাদিয়া ইসলাম। কোন ধরণের প্রভাবিত না হয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে পুলিশ বলছে- তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা। নির্যাতিতার পিতা খলিলুর রহমান বলেন, র‌্যাবের একজন সৈনিকের কৃতকর্মের দায় পুরো র‌্যাব নেবে না। নির্যাতিতা মেয়ের সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম চলছে। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবদুল হামিদ ০১৭৫১৩৩০২৫০ নম্বরে জানান, আমি তাকে কোনো নির্যাতন করিনি। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে যার কোন ভিত্তি নেই।

শেয়ার করুন-Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: Content is protected !!