আজ রবিবার| ৯ই আগস্ট, ২০২০ ইং| ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ৯ই আগস্ট, ২০২০ ইং

ময়লা আবর্জনার ভাগাড় মহম্মদপুর সরকারি বিদ্যালয়ের আশপাশ: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০ | ৮:৫৬ অপরাহ্ণ | 36 বার

ময়লা আবর্জনার ভাগাড় মহম্মদপুর সরকারি বিদ্যালয়ের আশপাশ: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

মুরাদ হোসেন (মাগুরা) থেকে : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদর হাট-বাজারের ময়লা আবর্জনায় ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে সরকারি আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশ। সাপ্তাহিক দুটি হাট ও প্রতিনিয়ত বাজারের সমস্ত ময়লা-আবর্জনা অবাধে ফেলা হচ্ছে বিদ্যালয়ের আশপাশে এবং পুকুরে। এতে যেমন দূষিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ তেমনই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী এবং তীব্র পচা দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রাণঘাতি করোন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট লকডাউন এবং সরকার ঘোষিত ছুটিতে সারাদেশের ন্যায় মহম্মদপুর উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কয়েকমাস ধরে বন্ধ রয়েছে। বন্ধের এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মানার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় হাট ও প্রতিদিনের বাজার সরকারি আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত¡রে স্থানান্তর করেন। কিন্তু এই হাট-বাজারে কোন পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন না থাকায় হাট-বাজরের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা অবাধে বিদ্যায়ের আশপাশ ও পুকুরে ফেলা হয়। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ঠের পাশাপাশি এডিস মশা জন্মানোর শঙ্কাও রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন হাট ও বাজার বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করে। এতে প্রতিদিন কয়েক হাজার ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে এই বিদ্যালয় চত্ত¡রে। আর এ কারণে বাজারের সমস্ত ময়লা-আবর্জনা পুকুর ও আশপাশে ফেলা হয়। ফলে একদিকে যেমন পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে তীব্র পচা দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। করোনার এই দূর্দিনে স্কুলের তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করে একাধিকবার স্কুলের পুকুর ও আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হলেও ময়লা ফেলা অব্যাহত থাকায় তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম নাসিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা সদর বাজারের প্রতিদিনের কয়েক টন ময়লা-আবর্জনা স্কুলের আশপাশে ফেলা হচ্ছে। দিনে স্কুল থেকে পাহারার ব্যবস্থা করলেও রাতে এ ময়লা ফেলা হয়। ক্যাম্পাসের ভেতর এবং বাইরের এসব আবর্জনার দূর্গন্ধে বিদ্যালয়ের স্বভাবিক সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়টি খোলা হলে এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ পাঠদান ব্যহত হবে। বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও কাচা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আলাউল হক বলেন, আমাদের ভালোবাসার পুকুরটিকে ডাস্টবিন বানানো হয়েছে। পুকুরের সাথে কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আজ এই হাল দেখে দুঃখ লাগে। তবে ব্যবসা করি তাই এখানে থাকতে হয়।

প্রাক্তন ছাত্রী এ্যাড. নেওয়াজ হালিমা আরলি, ১০টাকার সদাই ও হোপ অফ মহম্মদপুরের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় পুকুর এবং আশপাশ এলাকা পরিস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে। ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্যও মাইকিং করেছে। তবে এরাকাবাসী, সচেতনমহল ও অভিভাবকরা হাট-বাজার স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান জানান, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ চলছে। তবে হাট-বাজার সরানোর নির্দেশনা এখনো আসেনি। আসলে আমরা সরিয়ে ফেলবো।

শেয়ার করুন-Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: Content is protected !!