আজ বুধবার| ১২ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ বুধবার | ১২ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

এক বছর থেমে পদ্মা আবারও আগ্রাসী রুপে!

১৫ মিনিটেই নদী গর্ভে বিলিন বসাকের চর প্রাথমিক বিদ্যালয়

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২০ | ১১:২৮ অপরাহ্ণ | 88 বার

সহ ৪৯৮ টি বসত বাড়ি পদ্মায় বিলীন

এক বছর থেমে থেকে পদ্মা আবার আগ্রাসী রুপ ধারণ করেছে। পদ্মার প্রবল স্রোতের তোড়ে জেলার নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা ইউনিয়নের ৮১ নং বসাকেরচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল ভবন আজ বুধবার দুপুর ২টায় মূহুর্তেই বিলীন হয়ে গেছে পদ্মাগর্ভে। এছাড়াও ৪টি মসজিদ ও একটি নুরানী মাদ্রাসাসহ জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ৪৯৮ টি বসত বাড়ি পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে। প্রত্যক্ষদশীরা বলছেন স্রোতের গতি আরও বৃদ্ধি পেলে ভাঙ্গন আরও ভয়াবহ হতে পারে।

উজানের পানি নামতে শুরু করার পর থেকেই পদ্মা বেষ্টিত জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার নদী তীরবর্তি এলকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। আজ দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা ইউনিয়নের বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা একটি পাকা ভবন চলেগেছে পদ্মাগর্ভে। ত্রিশ গজ দূরত্বে থাকা দ্বিতলা অন্য স্কুল ভবনটিও যে কোন সময় গ্রাস করবে পদ্মা। পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতে ১৯৪২ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ভবনটিও নদীগর্ভে বিলীন হলে অনিশ্চিত হয়ে পরবে ৩৭৫ জন কোমলমতি শিশুর শিক্ষা জীবন। বিলীন হওয়া ভবনটি ২০১৬ সালে নির্মাণ ৩২ লক্ষা টাকা ব্যয়ে করা হয়েছিল। এ দিকে  স্রোতের তোরে আজ চরাত্রা ইউনিয়নের বসাকের চরের ৫০টি বসত বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়াও এ যাবত জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, বড়কান্দি ও নাওডোবা ইউনিয়নের ৪০৩ টি ও নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা ইইনিয়নের ৪৫ টি বসত বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়েছে।

চরআত্রা ইউনিয়নের বাসিন্দা ডাঃ তৌহিদ মুন্সী জানান, চোখের সামনে মাত্র  ১৫ মিনিটের ব্যবধানে নদী গর্ভে চলে গেল আমাদের ৮১নং বসাকের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া গত কয়েকদিনের নদী ভাঙণে প্রায় ৫০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙণ কবলিত এসব মানুষ এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি মহোদয়ের নির্দেশে ভাঙণ শুরু হওয়ার প্রথমদিন থেকেই বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে ভাঙণ রোধে। এখানে পানির স্রোত বেশী হওয়ায় পানির তোরে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ সরে যাচ্ছে। বস্তায় কোন কাজ হচ্ছে না। তবুও চেষ্টা অব্যাহত আছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, পদ্মার প্রবল স্রোত আজ চরাত্রা ইউনিয়নের বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা একটি পাকা ভবন পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩০ গজ দুরত্বে থাকা অন্য দ্বিতল ভবনটিও রয়েছে ভাঙ্গন ঝুঁকিতে। এছাড়াও আজ বসাকেরচরের ৫০টি বসত বাড়ি নদিগর্ভে চলেগেছে। ভাঙ্গন কবলিতদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, পদ্মার স্রোত বাড়ার সাথে সাথে আমরা স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্কুল ভবনটি রক্ষার জন্য জিওব্যাগ ডাম্পিং করেও শেষ রক্ষা হলো না। তবে ঝুঁকির বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা ছিল। বর্ষা মৌসুম চলে যাওয়ার পর ওই সকল শিক্ষার্থীদের পড়া-শোনা চালু রাখার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত কাজ চলছে। ওই সকল পরিবারগুলোকে ঘর নির্মানের জন্য ঢেউটিন ও নগদ টাকা দেয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন-Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print

সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: Content is protected !!