ঢাকা, রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিবগঞ্জে গাঁড়ল পালনে স্বাবলম্বী মাসুদ রানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ থেকে: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনারায়ণপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ রানা গাঁড়ল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি মনে করেন চাকরির পেছনে হন্য হয়ে না ছুটে যদি শিক্ষিত বেকার তরুণরা গাঁড়ল পালনে এগিয়ে আসে তাহলে সফলতার মুখ সহজেই দেখতে পাবে।

জানা গেছে, মাসুদ রানা মার্কেটিং বিভাগ হতে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। পড়াশুনা শেষ করার পর চাকরি না পাওয়ায় নিজ উদ্যোগেই বাড়ির পাশে একটি উন্নত জাতের গাঁড়ল খামার গড়ে তোলেন। প্রথমে ৪৪টি গাঁড়ল দিয়ে খামার শুরু করলেও এখন তার খামারে রয়েছে শতাধিক গাঁড়ল। প্রতিনিয়তই তার খামারে বাড়ছে গাঁড়লের সংখ্যা। গাঁড়লের মাংস ও চামড়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় খরচের চাইতে অধিক দামে বিক্রি করতে পারেন। প্রত্যেকটি গাঁড়ল ১৪ মাসে দুটি করে বাচ্চা দেয়। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে আয় হয় প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা। মাসুদ রানা জানান, গাঁড়ল পালনে তেমন খরচ হয়না। সঠিক নিয়মে পরিচর্যা ও দেখাশোনা করলেই বড় হয়। খামারের আশপাশে ব্যাপক চারণভূমি থাকায় সারাদিন বাইরের খাবারেই বড় হয়। এছাড়া গাঁড়লগুলো শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়ায় তাদের লালন পালনে তেমন বেগ পেতে হয়না।

স¤প্রতি তার গাঁড়ল খামার পরিদর্শন করেছেন জাপানিজ জুজু ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানীর প্রতিনিধি ইয়ে চাংচিং, ইয়েন গুয়োজো ও মো. আসাদ। তারা এই তরুণ মাসুদ রানাকে সমাজের আয়কন হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার আশ্বাস দেন। এমন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাসুদ রানা বলেন, ধৈর্য, ইচ্ছে শক্তি সফলতার মূল কারণ। আমি সকল কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রনজিৎ সিংহ চন্দ্র বলেন, মাসুদ রানা তরুণ সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ চারণভূমি থাকায় মাঠ থেকেই খাদ্য পাওয়া যায়। ফলে গাঁড়ল চাষ করে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। মাঠ পর্যায়ের কর্মী এবং আমি নিজেই খামারে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ সঠিক পরামর্শ দিয়ে থাকি। উল্লেখ্য, তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ রানা মধুমতি বিজনেস ডেভেলপমেন্ট নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান শুরু করেছেন। সেখানে উৎপাদিত হয়, তেল, আটা, খাতা, টিস্যু ব্যাগ, বিশুদ্ধ পানি, ব্যাটারির পানিসহ বিভিন্ন মসলার কারখানা। এছাড়াও মধুমতি হাট.কম নামে আরও একটি অনলাইন বাজার। যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এই প্রথম। পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন বৃহত্তর আকারের ছাপাখানা। ওই সব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে জেলার প্রায় সাড়ে ৪’শ যুবক ও যুবতির। সীমান্তবর্তী এ জেলায় তার এমন কর্মকান্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা।


error: Content is protected !!