ঢাকা, সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নমুনা দেওয়ার ৭১ দিন পরে হাতে এলো করোনা রিপোর্ট

বাগেরহাটের কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৩০ জুন করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দিয়েছিলেন ৭০ বছরের আলতাফ হোসেন ও তার স্ত্রী। তাদের মধ্যে আলতাফ হোসেন ফলাফল পেলেন ৭১ দিন পর। তাতে লেখা পজিটিভ। আলতাফ হোসেন ৭১ দিন পর ফলাফল পেলেও ওই একই দিনে নমুনা জমা দেওয়া আরও চার জন এখনও ফলাফল পাননি।

আলতাফ হোসেনের ছেলে গণমাধ্যমকর্মী আহরার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘সরকারি হাসপাতালে দেওয়া আব্বার করোনা টেস্টের রিপোর্ট অবশেষে আজ পেলাম। বেশি দিন লাগেনি, মাত্র ৭১ দিন লেগেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আব্বা করোনা পজিটিভ এসেছেন।’

জানা যায়, গত ৩০ জুন ৫ জন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। সেই পাঁচ জনের মধ্যে আলতাফ হোসেন টেস্টের ফলাফল পেলেন ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটে। অর্থাৎ ৭১ দিন পর করোনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলো তার। তাও পজিটিভ। বাকি চার জন এখনও ফলাফলের অপেক্ষায়।

ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, জুন মাসের শেষদিকে আলতাফ হোসেন অসুস্থ ছিলেন। করোনাভাইরাসের আক্রান্তের লক্ষণও ছিল। ১৫ থেকে ২০ দিনের মতো জ্বরে অসুস্থ তিনি এবং তার স্ত্রী শেষে গত ৩০ জুন করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন।

দুই/তিন পর অবস্থা খুব খারাপ হলে তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ঢাকায় আসার পরদিনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় এনে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরদিন রাতেই তার ফলাফল হাতে আসে। তাতে আলতাফ হোসেন করোনা পজিটিভ ছিলেন। তারপর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, যদিও ইতোমধ্যে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আক্রান্ত হন।

৩০ জুন নমুনা দেওয়া বাকি চার জনের মধ্যে একজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া নমুনা পরীক্ষার কথা ভুলেই যাই। তবে কয়েকদিন আগে একদিন খবর নিয়েছিলাম যে পরীক্ষার ফলাফল অন্যরা পেয়েছেন কিনা। সেখান থেকে খবর আসে, সেদিন যারা নমুনা দিয়েছেন তারা কেউ ফলাফল পাননি।

কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেদিনই নমুনা দেওয়া অথচ এখনও ফলাফল না পাওয়া পাঁচ জনের একজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি নিজেও সেদিন করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দিয়েছেন, কিন্তু বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি রিপোর্ট পাননি, ফোনে কোনও বার্তাও পাননি।

তিনি বলেন, আমি সে সময় খুবই চিন্তিত ছিলাম, অফিস থেকে ২০ দিনের মতো ছুটি নেই। কিন্তু এতদিন পরেও রিপোর্ট আসেনি বলায় স্বাভাবিকভাবেই অফিস থেকে অবিশ্বাস করা শুরু করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার বলেছেন, টেস্ট রিপোর্ট এখনও আসে নাই? এমন তো শুনি নাই। তারা আমাকে অবিশ্বাস করছিল। শেষে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ দেখানোর পর তারা বিশ্বাস করেন। আমিও খুব আতঙ্কিত ছিলাম। কারণ, করোনা পজিটিভ কিনা, যদি সেটা হয়েও থাকি, তাহলে বাইরে চলাফেরাসহ কত বিষয় এখানে জড়িত। আবার কচুয়ার মতো একটি জায়গায় যখন টেস্ট করাতে গিয়েছি, অনেকেই দেখেছেন। আর এখন কোভিড নিয়ে আতঙ্ক কিছুটা কাটলেও তখন তো ভয়ঙ্কর অবস্থা ছিল। যারা দেখেছেন, তারাও অন্য চোখে দেখছিলেন।

৭১ দিন পর ফলাফল পাওয়া আলতাফ হোসেনের নমুনা পরীক্ষাটি করা হয়েছে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে। ৭১ দিন পর কীভাবে ফলাফল দেওয়া হলো জানতে চাইলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামসুজ্জামান তুষার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নিয়মিতভাবে বাগেরহাট থেকে কোনও স্যাম্পল পাঠায় না। বাগেরহাটের স্যাম্পল যায় খুলনায়। খুলনা থেকে দু-একবার পরীক্ষা করানো হয়েছে। আর ওখানে ব্যাকলগ হয়ে গেলে সেটা আমাদের কাছে আসে। তবে এটা অনেক দিন আগের বিষয়। সব রেকর্ড না দেখে মন্তব্য দিতে পারবো না।

এদিকে বাগেরহাটের নমুনা ঢাকায় আসে কিনা জানতে চাইরে জেলার সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ূন কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনার শুরু থেকেই এ ধরনের ঝামেলা হয়ে যাচ্ছে। নিকটতম ল্যাব হচ্ছে খুলনাতে, আবার খুলনাতে যখন ওভারলোড হয়ে যায় তখন সেটা ঢাকায় পাঠাই। আবার ঢাকাতে যেহেতু অনেক জায়গা থেকে নমুনা যায়, তাই পরীক্ষা হওয়ার পরেও রিপোর্ট দিতে দেরি হয়। আমরা নিজেরাও চাই নমুনা পরীক্ষার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফলাফল দিতে। কারণ, তাতে পজিটিভ-নেগেটিভ দুটোই অনেক বড় বিষয়। সে অনুযায়ী তাকে চলতে হবে, ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু এ সমস্যাগুলো হচ্ছেই।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটা কোনোভাবেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ভেতরে পড়ে না। এক্ষেত্রে আসলে কী হয়েছিল এবং এরকম আরও হচ্ছে কিনা এসবের তদন্ত হওয়া উচিত।


error: Content is protected !!