ঢাকা, শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিবগঞ্জের মনাকষায় গণহত্য দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষায় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় মনাকষা ইউনিয়ন বাংলাদেশ আওয়ামী প্রজন্মলীগের উদ্যোগে হুমায়ুন রেজা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে শহীদ সন্তান রাইসুদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল।

 

এ সময় তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মনাকষা হুমায়ূন রেজা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে গণকবর ঘেরা হবে। পাশাপাশি শহীদের নামের তালিকাসহ স্মৃতিফলন নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হয়েছে। দেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। তাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের পরিবারগুলোর প্রতি সুদৃষ্টি দেয়া।

 

সাংসদ ডা. শিমুল বলেন, সরকার পদক্ষেপ নিয়েছেন যে, আগামী বিজয় দিবসের আগে রাজাকারদের নামের তালিকা প্রকাশ করা। আমি চেষ্টা করছি বিশেষ করে এখানে যে ১৩ জন শহীদের গণকরব আছে তা সংরক্ষণ করা ও প্রতিবছর যেন ৭ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোহিদুল আলম টিয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি দেশের প্রথম যুদ্ধাপরাধী মামলার বাদি শহীদ সন্তান বদিউর রহমান বুদ্ধু, মনাকষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার জাহান সেরফান, মনাকষা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ উদ্দিন, আদিনা কলেজের সাবেক ভিপি ফাইজুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ আওয়ামী প্রজন্ম লীগের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আজম আলি ও সাধারণ সম্পাদক আসমাউল হকসহ। শেষে শহীদের রুহের মাগফেরাতের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন ৭ অক্টোবর দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় পারচৌকা, সিংনগর, বনকুল ও হাউসনগর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয় ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৩ জন নিরহ মানুষকে বাড়ি থেকে ধরে এনে হুমায়ুন রেজা উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে গুলি করে হত্যা করে এক রাজাকারের জমিতে সামান্য গর্ত করে পুঁতে রাখে। যা এখনো অবহেলিত রয়েছে। এই ১৩ জন হচ্ছে- পারচৌকা গ্রামের শহীদ মুসলিম উদ্দিন, এসলাম আলি, অবোল হোসেন, আমজাদ হোসেন, খোকা আলি, শামসুদ্দিন, হাউসনগর গ্রামের আব্দুল রশিদ, আরশাদ আলি, ফাইজুল ইসলম, গুদোড় আলি, বনকুল গ্রামের ভূরণ, ফরিদ উদ্দিন ও সিংনগর গ্রামের জুনাব আলি।

 

 


error: Content is protected !!