ঢাকা, সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ : ধর্ষককেই বিয়ের নির্দেশ আদালতের

‘সর্প হইয়া দংশন করে, ওঁঝা হইয়া ঝাড়ে’। গানের এই কথাগুলোর সঙ্গেই মিলে গেল বাস্তব এক ঘটনা। এবার ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামির জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছেন স্বয়ং ভিকটিম (ধর্ষিতা)। জামিনের আবেদনে বলা হয়েছে, জামিনে মুক্তি পেলে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। তবে হাইকোর্ট ওই আসামিকে জামিন দেননি। আদালত আসামি ও ভিকটিমের মধ্যে কারা ফটকেই বিয়ের আয়োজন করতে রাজশাহী কারাগারের তত্তাবধায়কের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। এই বিয়ের পর সে বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালত উভয়পক্ষের সম্মতিতে এ আদেশ দেন। ভিকটিমের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন দাখিল করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহেদ চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার সিতানাথ খালকোর ছেলে দিলীপ খালকোর সঙ্গে তার খালাতো বোনের (ভিকটিম) মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। এরই সূত্র ধরে ভিকটিমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারসঙ্গে ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দৈহিক মেলামেশা করে দিলীপ খালকো। এতে ভিকটিম গর্ভবতী হয়ে পড়েন। কিন্তু এরপর থেকে দিলীপ খালকো আর বিয়ে করতে রাজি হননি। এ নিয়ে সালিশ করা নিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত সালিশ বৈঠক না হওয়ায় ভিকটিম ওইবছরের ২৩ অক্টোবর স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে হাজির হয়ে তার পেগনেনসি পরীক্ষা করে। এরপর ২৫ অক্টোবর গোদাগাড়ি থানায় হাজির হয়ে দিলীপ খালকোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে। এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর বিচার শেষে ওইবছরের ১২ জুন এক রায়ে দিলীপ খালকোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। রায়ে বলা হয়, যখন ভিকটিম ধর্ষণের শিকার হন তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর।

২০১২ সালের রায়ের পর থেকে দিলীপ কারাবন্দি। এ অবস্থায় দিলীপের জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন স্বয়ং ভিকটিম। আদালতে শুনানিতে তার আইনজীবী জানান, জামিন পেলে তাদের মধ্যে বিয়ে হবে। এ অবস্থায় আদালত কারা ফটকে বিয়ের আয়োজন করতে কারা তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেন।


error: Content is protected !!