ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শ্রীনগরে স্টাপ ডাক্টার সেজে রিপোর্ট প্রদান 

অধীর রাজবংশী : শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘরে অবস্থিত লোকমান হাওলাদার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত এমবিবিএস ডাক্তারের পদ পদবীসহ নামের স্থলে প্রতিষ্ঠানের স্টাফের স্বাক্ষর দিয়ে রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এসব রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানের একজন স্টাফ ডাক্তার সেজে সরাসরি বিভিন্ন রিপোর্টে ডাক্তারের নকল স্বাক্ষর দেওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

 

এ ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে ষোলঘর বাজার-উপজেলার রোডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু তালেব হাওলাদার। এসব অনিয়ম করার বিষয়ে গত মঙ্গলবার এর প্রমানও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভূক্তভোগী জানায়, ষোলঘর বাজার ব্রিজের পশ্চিম পাশে লোকমান হাওলাদার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে রক্তের গ্রæপ নির্নয় করতে গেলে এক স্টাফ রিপোর্ট প্রিন্টে স্বাক্ষর করে। দেখি অনুপস্থিত ডাক্তার প্রদীপ বিশ্বাসের (এমবিবিএস (ডিএমসি) বিসিএস ঢাকা মেডিকেল কলেজ) নামের ওপর স্বাক্ষর করা হয়েছে।

 

আমি প্রতারনার শিকার হলে স্থানীয়দের জানাই। পরে ঘটনাটি এলাকায় জানা জানি হয়। সরেজমিনে গিয়েও ওই ডাক্তারকে পাওয়া যায়নি। এ সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক আবু তালেব হাওলাদারকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবী করে বলেন, ডাঃ প্রদীপ বিশ্বাস সপ্তাহে ৩-৪ দিন তার প্রতিষ্ঠানে বসেন। ডাক্তার প্রদীপ বিশ্বাসের মোবাইল ফোন নম্বর চাইলে আবু তালেব হাওলাদার বলেন, আপনারা সাংবাদিক ডাক্তারের ফোন নম্বর খুঁজে নেন।

 

আমি দিতে পারবোনা। তার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ণ করা আছে কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি দম্ভ করে বলেন, সব আছে, আপনাদের বলবো কেন? তার কিছুক্ষণ পরে ডাঃ প্রদীপ বিশ্বাসের নম্বর সংগ্রহ করে তার সাথে আলাপ করে জানা যায় তিনি এক সময়ে লোকমান হাওলাদার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে বসতেন। দীর্ঘদিন যাবত তিনি এখানে আসেননা। পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্টে তার স্বাক্ষর ব্যবহার করার বিষয়ে তিনি বলেন, এমনটা করা হলে তারা অন্যায় করছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ রেজাউল হকের কাছে রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ডাক্তারের স্বাক্ষর ব্যবহার করাটা কতটা বৈধতা বহন করে এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এক ধরণের প্রতারনা। এ বিষয়ে উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে অবহিত করার কথা বলেন তিনি।

 

এব্যাপরে মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্ষেত্রে এমটি ল্যাব স্বাক্ষর দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের নাম কিংবা স্বাক্ষর ব্যবহার করা যাবেনা। এমনটা করা হলে সেটা অনিয়ম ও অন্যায় হবে।


error: Content is protected !!