ঢাকা, মঙ্গলবার, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আখাউড়া পৌর নির্বাচন

শ্বশুরের ‘পাঞ্জাবি’ ভিজাতে পারে জামাইয়ের পানির বোতল!

বর্তমানে নির্বাচিত কাউন্সিলর হলেন শ্বশুর। বয়সগত কারণে নিজের শেষ নির্বাচন বলেও ঘোষণা দিলেন। তবুও মন গলেনি মেয়ে জামাইয়ের! ‘বাবার ওসিয়ত’ তাই নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দেন জামাই। শ্বশুরকে সরে দাঁড়াতে অনুরোধ করেন জামাই। পাল্টা জামাইকেও সরে দাঁড়াতে বলেন শ্বশুর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুইজনই ভোটের মাঠে রয়েই গেলেন।

 

ভোটের মাঠে শ্বশুর-জামাইয়ের এ লড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে। পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড থেকে বর্তমান কাউন্সিলর মো. বাবুল মিয়া ও তাঁর বড় মেয়ে লিজা আক্তারের জামাই মো. হুমায়ুন কবির একই পদে লড়াই করছেন। হুমায়ুন কবিরের বাবা প্রয়াত মো. মন্তাজ মিয়া ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর। মন্তাজ মিয়া বিএনপি থেকে মেয়র পদেও নির্বাচন করেন।

 

বুধবার বরাদ্দ পাওয়া প্রতীক অনুযায়ি বাবুল মিয়া লড়ছেন ‘পাঞ্জাবি’ মার্কা নিয়ে। অন্যদিকে জামাই হুয়ামুন কবিরের মার্কা ‘পানির বোতল’। যে কারণে জামাইয়ের পানির বোতলে শ্বশুরের পাঞ্জাবি ভিজবে নাকি শ্বশুর তাঁর পাঞ্জাবির পকেটে পানির বোতল ভরবেন সে নিয়েই চলছে আলোচনা। শ্বশুর-জামাইয়ের সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দেবগ্রামের আমতলী এলাকায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। ওই ওয়ার্ডে আরেক প্রার্থী হলেন ‘উট’ প্রতীকের মো. দেওয়ান সাদ্দাম।

 

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ও ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পৌর এলাকার দেবগ্রামের মো. আব্দুল মমিন বাবুল বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি তাদের দুইজনকে এক করে দিতে। কিন্তু প্রত্যেকেই তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনড় ছিলেন বলে সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার ভোটার বিশেষ করে ওই দুই প্রার্থীর পরিবারের স্বজনরা মধুর সমস্যায় আছেন। অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কাকে ভোট দিবেন। মূলত ওই দুইজনের মধ্যেই লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তবে এ সুযোগে তরুণ প্রার্থী সাদ্দামও চমক দেখালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

মো. হুমায়ুন কবির  বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন কাউন্সিলর। সারাজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন। তিনি আমাকে বলে গেছেন আমিও যেন মানুষের সেবা করি। বাবার কথা রাখতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। আমার শ্বশুর যেহেতু একবার কাউন্সিলর হয়েছেন তাই এ বছর নির্বাচন না করার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু আমার অনুরোধ রাখেননি।’

 

অন্যদিকে মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমি মেয়ে জামাইকে হাতে ধরে বলেছি যেন এ বছর আমাকে ছাড় দেয়। বয়সের কারণে আগামীতে আমি না দাঁড়ালে সে করতে পারতো। কিন্তু সে তাঁর বাবার ওসিয়তের কথা বলে নির্বাচন করার বিষয়ে অনড় রয়েছে। আমি কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় মানুষের সেবা দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এখন জনগণ যাকে বেছে নেয়ার নেবে।’

 

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে আখাউড়া পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৮নং ওয়ার্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪৩৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোট ২১৫০ ও নারী ভোট ২২৪৭। দেবগ্রাম পাইলট সরকারি মডেল বিদ্যালয়ের দু’টি আলাদা ভবনে ভোট গ্রহন করা হবে।


error: Content is protected !!