ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় আট বছর বয়সী নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. ফারুক বেপারী ভোলা (৫৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পালং থানা পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দলমন আইনে (ধর্ষণের) অভিযোগ এনে ভিকটিমের খালা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

 

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগতরাতে ফারুক কে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফারুক ভোলা জেলার চর ফ্যাশন থানার চর নিউটন গ্রামের মৃত হারেজ বেপারীর ছেলে।

 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে ঢাকাতে ওই শিশুর মায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় ফারুক বেপরীর। বিয়ের চার বছর পর তারা শরীয়তপুরে চলে আসে। বিবাহিত জীবনে তাদের এগারো বছরের এক ছেলে ও আট বছরের এক মেয়ে আছে।

 

অভাবের সংসারের হাল ধরতে ওই শিশুর মা
২০১৮ সালে সৌদি আরব যান। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সেই সুবাদে মো. ফারুক বেপারী তাদের ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার নীলকান্দি এলাকার হারুন তালুকদারের ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই বাসায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাতে নিজের আট বছরের মেয়েকে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ইতিপূর্বেও ওই শিশুটিকে অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অপরদিকে মেয়েকে ভয় দেখিয়ে ঘটনা কাউকে বললে খুন করার হুমকি দেয়। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়ে তার খালাকে ধর্ষণের ঘটনা খুলে বলে। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই শিশুকে নিয়ে ওর খালা দ্রুত পালং মডেল থানায় এসে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।

 

ভিকটিমের খালা বলেন, ভাগনি ওর বাবার ভয়ে এতদিন চুপ ছিল। কাউকে কিছু বলেনি। আমার বাড়িতে আসলে বিষয়টি ভাগনি আমাকে খুলে বলে। পরে। আমি ভাগনিকে নিয়ে থানায় মামলা করেছি। ফারুক ভাগনির সঙ্গে পৈচাশিক কাজ করেছে। ফারুক একজন অমানুষ ওর ফাঁসি হওয়া উচিত।

 

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, আমরা ভিকটিমের খালার অভিযোগ এবং সার্বিক বিষয় যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছি। বুধবার রাতে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছি এবং ভিকটিমকেও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর ১৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


error: Content is protected !!