ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে সদর উপজেলার দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের খাদিজা আক্তার মধুকে (২০) কে যৌতুকের জন্য হত্যা মামলায় স্বামী এবাদুল হক মৃধাকে (২৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুস ছালাম খান আজ সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে এ আদেশ দেন। এছাড়া এবাদুলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদর উপজেলার দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের ছমেদ মৃধার ছেলে এবাদুল হক মৃধা।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৬ সালে সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামের গোলাম মাওলা কাজী’র মেয়ে খাদিজা আক্তার মধুর সঙ্গে একই উপজেলার দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের ছমেদ মৃধার ছেলে এবাদুল হক মৃধার সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই এবাদুল তার স্ত্রী মধুকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য মারধর করতো।

 

শেষ গত ২০১৮ সালের ১৫ মে বিকেল ৫টার দিকে মধুর বাবার বাড়ি থেকে ৬০হাজার টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবাদুল। যৌতুকের টাকা আনতে অস্বীকার করলে মধুকে প্রথমে মারধর করে, পরে বালিশ চাঁপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ওইদিন স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে মধুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় ১৬ মে নিহতর মা আমেনা বেগম (৫৬) বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানায় সাতজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মধুর স্বামী এবাদুল হক মৃধা, ভাসুর শাহ আলম মৃধা, দ্বীন ইসলাম মৃধা, সাইদুল মৃধা, শশুর চমেদ মৃধা শাশুরি রিজিয়া বেগম, জা রুজিনা বেগমকে আসামি করা হয়।

 

তদন্ত শেষে পালং মডেল থানার পুলিশ একজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। সাতজন সাক্ষীর সাক্ষগ্রহণ শেষে আসামী এবাদুল হক মৃধার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে ফাঁসি’র আদেশ দেন আদালতের বিচারক। অপর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পর এবাদুলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

শরীয়তপুরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা হজরত আলী বলেন, যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রী মধুকে হত্যা করেছে ঘাতক স্বামী এবাদুল। আমি এ রায়ে খুশি হয়েছি।

 

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাশিদুল হক রাশেদ তিনিও রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন।


error: Content is protected !!