ঢাকা, বুধবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা ডন, যুবলীগ নেতা শ্যামল মোল্লা

শ্যামল মোল্লা (৪২)। যুবলীগে সক্রিয় এই নেতাকে এলাকার সবাই চেনে ‘ইয়াবা ডন’ হিসেবে। যদিও বর্তমানে তিনি কোনো পদে নেই, তার পরও দোর্দণ্ড প্রভাব। বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটি গ্রামে। ওই গ্রামের হালিম মোল্লার বড় ছেলে শ্যামল।

 

এলাকার লোকজন জানায়, কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া, সনমানিয়া, দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ ইয়াবা কারবারে তাঁর আধিপত্য পাশের নরসিংদীর মনোহরদীর হাতিরদিয়া ও শিবপুরের লাখপুর পর্যন্ত। নানা পেশার ছদ্মাবরণে এলাকাভিত্তিক তাঁর বিক্রয়কর্মী অনেক।

 

২০১৯ সালের ১৪ জুন রাতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর একটি মাদকের আস্তানা জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ওই ঘটনার কিছুদিন আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে মাদকসহ ধরাও পড়েছিলেন তিনি। জামিনে বেরিয়ে ইয়াবা কারবারের পরিধি আরো বাড়ান।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশের হালনাগাদ তালিকায় ঘাগটিয়া ইউনিয়নে শ্যামল মোল্লা ২৩ নম্বর মাদক কারবারি। ওই তালিকায় তিনি খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘাগটিয়া, সনমানিয়া ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, ইয়াবার গডফাদার তিনি। ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও, চালাবাজার, খিরাটি, মানিকবাজার ও সনমানিয়া ইউনিয়নের আড়াল বাজার, গনি মার্কেট, খোকা মার্কেট এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জ, ঘিঘাট-বান্যিখোলা এলাকায় ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন শ্যামল। শুধু তা-ই নয়, ইয়াবা কারবারে তাঁর আধিপত্য পাশের নরসিংদীর মনোহরদীর হাতিরদিয়া বাজার এলাকাসহ শিবপুরের লাখপুর ও শিমুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

 

শ্যামল মোল্লার এক আত্মীয় জানান, ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে শ্যামল। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে মাদকাসক্ত হন। এর দুই বছর পর জড়ান মাদক কারবারে। এলাকার মানুষ শ্যামলের মাদক কারবারে বিভিন্ন সময় বাধা দিত। এক পর্যায়ে তাঁর একটি আস্তানা জ্বালিয়ে দেয় এলাকাবাসী। ওই ঘটনার পর বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় প্রবাসী আবদুল্লাহ, তাঁর মা-বাবা ও বোনের ওপর হামলা চালান শ্যামল। রিমন নামের এক তরুণকেও মারধরের পর হত্যাচেষ্টা চালান। এর কিছুদিন পর খিরাটি গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে সুমনকেও মারধর করে শ্যামলের সহযোগীরা। খিরাটি গ্রামের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, শ্যামলের অন্যতম সহযোগী তারেক। তারেকও পুলিশের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি। তাঁর (তারেক) নামে কাপাসিয়া থানায় মাদকের পাঁচটি মামলা রয়েছে।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শ্যামল মোল্লা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কারা এসব অভিযোগ করছে আমি জানি না। আমি মাদক কারবারের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলাম না। মাঝেসাঝে ইয়াবা খাইতাম, কিন্তু ব্যবসা করছি না।’

 

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন প্রধান বলেন, ‘শ্যামল মোল্লা যুবলীগে সক্রিয়। উপজেলা যুবলীগের আগের কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি মাদক কারবারি কি না, আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব, মাদক কারবারি হলে যুবলীগের কোনো পর্যায়েই তাঁকে পদে রাখা হবে না।’

 

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি বলেন, ‘শ্যামল দলের কোনো পদে নেই। তাঁর বিষয়টা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। মাদক কারবারি হলে দলে তাঁর স্থান হবে না।’


error: Content is protected !!