ঢাকা, বুধবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ে আনারসের আগাম ফলনে লাভবান চাষী

এম জামান রাজ, স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি : পার্বত্য খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পাহাড়ে আনারসের আবাদ বেড়েছে। ফলনও ভাল হচ্ছে। খেতে সুস্বাদু পুষ্টিগুণে ভরা এ ফলটি চাষ করে চাষিরাও লাভবান। ক্রেতা ও পাইকার সবার কাছেই রয়েছে পাহাড়ের এই আনারসের কদর।

এক সময় এ জেলায় তেমন একটা আনারসের চাষ হতো না । বসতবাড়ীর আনাচে কানাচে অন্যান্য ফলজ গাছের পাশাপাশি কিছু আনারসের গাছ লাগিয়ে রাখা হতো। এতে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি হতো। বর্তমানে ভালো ফলন ও লাভজনক হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার সবকটি উপজেলাতেই ফলটি বছর জুড়েই চাষ হচ্ছে। চাহিদা থাকায় দিন দিন চাষেরও পরিধি বাড়ছে। কয়েক বছর আগেও পাহাড়ে প্রচুর জমি পতিত পড়ে থাকত। এসব জমিতে কোন ফসল চাষ হতো না। দিন দিন লোক সংখ্যা বাড়ছে। তার সঙ্গে কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে পাহাড়ি পতিত জমিতে আবাদ করে এখন পুরোদমে আনারস সহ নানা ধরণের ফসলের চাষ হচ্ছে। মন কেড়ে নেয় আবাদকৃত আনারসের ফলন।

 

আলাপকালে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গীর নিলাঞ্জয় চাকমা, ফলজ চাষি অনিমেশ চাকমা বলেন, ‘ বেকার ছিলাম। এখন আর বেকার নই। বছরজুড়ে আনারস সহ নানা ধরণের ফলজ ফসল চাষ করে সৎপথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি।’ আনারসের বাম্পার ফলনে মুখে হাসি ফুটেছে প্রতিটি চাষির। আমরা মনে করছি পতিত পাহাড়ি জমিতে আনারস চাষ করে খুবই লাভবান হবো। এয়াড়াও আগাম ফলনে দামও ভালো পাচ্ছি।

পানছড়ির পুজগাং এলাকার চাষি অন্তর চাকমা বললেন, ‘ অনেকে পাহাড়ে সারা বছর আনারস চাষ করছেন। তবে আমরা এক মৌসুমই এ ফল চাষ করছি। সমতলে চাহিদা থাকায় ও ফলন ভালো হওয়ায় দ্বিগুন লাভ হবে আশা করছি।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুর্তুজ আলী বলেন, ‘ মৌসুমী ফল আনারসের অনেক গুণ। আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে আনারসের কদর বেড়েছে। তাই দাম বেড়েছে কিছুটা। সাধারণত পাহাড়ি এলাকায় আনারস চাষ ভালো হয়ে থাকে। বর্তমানে জেলার প্রায় ১০০০ একর জমিতে আনারস চাষ হচ্ছে। প্রতি একরে প্রায় ৮০ হাজার গাছে ১০০% আনারস ফলন হয়েছে। এতে কমপক্ষে ছোট বড় দুই হাজার চাষি এর সাথে জড়িত।


error: Content is protected !!