ঢাকা, বুধবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোসাইরহাটে চেতনানাশক দিয়ে এক পরিবারের পাঁচজনকে অচেতন, রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় একজন নিহত!

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় দুপুরে চেতনানাশকমিশ্রিত খাবার খেয়ে এক পরিবারের পাঁচজন অচেতন হয়ে পড়েন। এ ঘটনার পর রাতে ওই পরিবারের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলায় স্কুলছাত্র নাঈম ও তার বড়ভাই কামাল নামের দুইজন আহত হয়।

 

গত ১৬ মার্চ (মঙ্গলবার) দুপুরে উপজেলার নলমুড়ি ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের চর বুয়াই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

১৭ মার্চ (বুধবার) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত স্কুলছাত্র নাঈমের মৃত্যু হয়। নাঈম হাওলাদার (১৬) চর বুইয়া গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে। সে স্থানীয় হাটুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

 

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে নাঈমদের বাড়িতে বোরকা পরিহিত দুইজন নারী আসে। নাঈমের বোন খাদিজার কাছে ওই নারীরা জিজ্ঞেস করে, তোমার মা কোথায়? খাদিজা বলে মা পুকুরে গেছে। আপনারা ঘরে এসে বসেন, আমি মাকে ডেকে আনি। পরে ওই নারীদের আর পাওয়া যায়নি। পরে নাঈম, তার বোন খাদিজা আক্তার, ভাই কামাল আহম্মেদ হাওলাদার, বাবা হাবিবুর রহমান হাওলাদার ও মা নাসিমা বেগম মিলে সবাই দুপুরের খাবার খান। খাবার খাওয়ার পর সবাই তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে পড়েন। শেষ রাতের দিকে নাঈম বাহিরে প্রস্রাব করতে বের হয়। তখন অচনা কয়েকজন ব্যক্তি নাঈমের মাথায় ও পেটে হঠাৎ লোহার রড দিয়ে আঘাত করতে থাকে। নাঈম চিৎকার করলে শব্দ পেয়ে তার ভাই কামাল ঘুম ঘুম অবস্থায় বাহিরে আসেন। কামালকে মেরে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

 

পরে বুধবার সকালে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় নাঈম ও কামালকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈম ও কামালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আর বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে নাঈমের মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকালে বাড়িতে এনে নাঈমের দাপন সম্পূর্ণ হয়।

 

গোসাইরহাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নলমুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৭নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো. হাবিবুর রহমান খান ও নিহত নাঈমের দুলাভাই বারেক বলেন, ওদের খাবারে নেশা জাতীয় ঔষধ মিশানো হয়েছিল। রাতে নাঈম বাহিরে গেলে তার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে নাঈমের ভাই কামালও আহত হয়। ওরা নাঈমকে হত্যা করেছে। আমরা প্রকৃত দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

 

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: তানিয়া বলেন, ১৭ মার্চ সকালে নাঈমকে অচেতন অবস্তায় ও মাথায় ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে আনে পরিবার। সঙ্গে নাঈমের ভাই কামালকেও হাসপাতালে আনা হয়। তাদের দুজনকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধজাতীয় কিছু মেশানো হয়ে থাকতে পারে। পরে তাদের অবস্থা খারাপ দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

 

এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোয়েব আলী বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আজ সকালে নাঈমের মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে। ওই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


error: Content is protected !!