ঢাকা, শনিবার, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, শনিবার, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বারৈয়ার হাট-হেয়াঁকো- রামগড় সড়ক প্রশস্ত করণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি :
খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে রামগড়- মীরসরাই-ফটিকছড়ি সহ উত্তর চট্টগ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন লক্ষে বারৈয়ারহাট-হেয়াঁকো- রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

 

 

২৪মে ২০২৩ বুধবার সকালে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এর উদ্যেগে সড়ক ও জনপদ বিভাগের বাস্তবায়নে ঢাকার তেজগাঁও সড়ক ভবন থেকে ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে রামগড় স্থলবন্দর স্থলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।

 

 

জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই-ফটিকছড়ি ও খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন বারৈয়ারহাট-হেয়াঁকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ৩৮ কি.মি। বর্তমান ৫.৫০ মিটারের সড়কটি বৃদ্ধি করে ১১.৩০ মিটারে উন্নতি করা হবে। এতে থাকবে ২৪৯.২০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৯টি ব্রীজ ও ১০৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে ২৩টি সেতু।

 

 

উল্লেখ্য, এতে ২৪টি ব্রীজ ও ২৪টি সেতু ইতিপূর্বে জাইকা কর্তৃক নির্মিত হয়েছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ১১০৭.১২ কোটি টাকা যার মধ্যে ইন্ডিয়ান স্টেট ক্রেডিটের আওতায় অর্থাৎ ভারত সরকার ঋণ হিসাবে দিচ্ছে ৫৯৪.০৭ কোটি টাকা। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালের কাজটি শেষ করার লক্ষমাত্রা দিয়ে ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অশোকা বিল্ডকন লিমিটেডকে সড়কটি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

 

ভিডিও কনফারেন্সে বলা হয়, এই প্রকল্পটি প্রতিবেশি দেশ ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার উম্মোচিত হবে। সাব্রুম (ত্রিপুরা) রামগড় (খাগড়াছড়ি) স্থল বন্দর উভয় দেশের ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে বিশাল সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে। প্রস্তাবিত সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মিরসরাই এর বারৈয়ারহাট হতে শুরু হয়ে খাগড়াছিড়র রামগড়ে শেষ হয়েছে। রামগড় স্থলবন্দরটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর হতে মাত্র ১০৮ কিলোমিটার ও রাজধানী ঢাকা হতে ২০৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত । সুতরাং এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও ঢাকার সাথে সাক্রম (ত্রিপুরা) রামগড় (খাগড়াছড়ি) স্থলবন্দর এর সংযোগ স্থাপন হবে এবং এর মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সমৃদ্ধি বেগবান হবে। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির সাথে চট্টগ্রাম বিভাগসহ সারাদেশের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। খাগড়াছড়ি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও জানানো হয়।

 

 

এ সময় সড়ক বিভাগের আয়োজনে রামগড় স্থলবন্দর স্থলে স্থাপিত ভিডিও কন্ফারেন্স স্থলে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন কাজের উদ্বোধন অংশ নেন খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ বাসন্তি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক সহিদুজ্জামান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার নাইমুল হক, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারী, ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব, রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতা আফরিন, পৌর মেয়র রফিকুল আলম সহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা সহ সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা।


error: Content is protected !!