ঢাকা, সোমবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

‘আমার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে, আল্লাহ তাদের ইচ্ছা পূরণ করুন’

পরপর চার মেয়ে হওয়ায় ছেড়ে যান স্বামী। তবু মেয়েদের আগলে রাখেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা সেলিনা আক্তার। থাকার জন্য ছিল না কোনো ভিটেমাটি। আরেকজনের ভিটায় একটি কুঁড়েঘরে থাকতেন তিনি। নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান উপজেলার গুমান মর্দ্দন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে। তার মাধ্যমে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ঘর উপহার পান সেলিনা আক্তার।

২০২২ সালের ১০ এপ্রিল ঘর বুঝে নেওয়ার দিন ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জীবন সংগ্রামের কথা শুনান সেলিনা আক্তার। সেদিন তার বক্তব্য উপস্থিত অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ওইদিনই মেয়ের পড়ালেখাসহ যাবতীয় বিষয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. জ. ম নাছির উদ্দীন। এরপর থেকে সেলিনা আক্তারের মেয়েদের পড়ালেখার যাবতীয় খরচ দিচ্ছেন তিনি।

 

সেলিনা আক্তার জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পরই নাছির উদ্দীন তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপর ২০২২ সালে মেয়েদের পড়ালেখার যাবতীয় খরচ এবং সরঞ্জাম দেন। সবশেষ শনিবার (৩ জুন) তার প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করে ২০২৩ সালের মাদ্রাসার বেতন-ভাতা বাবদ ৫৮ হাজার টাকা জমা করে দেন। একই সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার টাকার শিক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করেন।

শনিবার সেলিনা আক্তার  বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘর দিয়েছেন। আমি সেই ঘরে থাকি। একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। সেখানে যা পাই তা নিয়ে চলি। মেয়েদের পড়ালেখার খরচ নাছির উদ্দীন দিচ্ছেন। আমি আল্লাহর রহমতে সুখেই আছি। আমার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে, আল্লাহ তাদের ইচ্ছা পূরণ করুণ। আমি প্রতিদিন নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করি। এখন মনে হচ্ছে আমি জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়েছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরপর চার মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ায় ২০০৯ সালে সেলিনা আক্তারকে ফেলে চলে যান তার স্বামী ও অটোরিকশাচালক স্বামী মুজিবুর রহমান মিলন। তখন সেলিনার চতুর্থ মেয়ের বয়স মাত্র তিনমাস। এরপর থেকে মুজিবুরের আর হদিস মেলেনি। তবু মা সেলিনা তিলে তিলে বড় করেন চার মেয়েকে। এখন চার মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে সুমি আক্তার নিজের ইচ্ছায় পড়ালেখা করছেন না। তিনি ঘরে বসে মেশিন কিনে সেলাইয়ের কাজ করছেন। মেজ মেয়ে রুমি আক্তার আলিম শ্রেণিতে, তৃতীয় মেয়ে রুমা আক্তার পড়েন দশম শ্রেণি এবং চতুর্থ মেয়ে চাঁদনী আক্তার পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে। তিনজনই স্থানীয় একটি মাদ্রাসা পড়েন।

 

শনিবার আ. জ. ম নাছির উদ্দীনের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনিছুর রহমান সেলিনা আক্তারকে উপহার তুলে দিতে হাটহাজারীর গুমান মর্দ্দন ইউনিয়নে যান। এসময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে আনিছুর রহমান বলেন, মেয়েদের পুরো বছরের বেতন, পরীক্ষার ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সংস্করণের বই, খাতা, কলমসহ যাবতীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। আ. জ. ম নাছির উদ্দীন চার মেয়ে ও তাদের মাকে দেয়া ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করে চলেছেন।


error: Content is protected !!