ঢাকা, বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জোড়া হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, মূল আসামী গ্রেফতার

বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম, ডিআইজি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), বাংলাদেশ পুলিশ মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায়, জনাব মোঃ গোলাম রউফ খান, পিপিএম(বার), অতিঃ ডিআইজি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) বাংলাদেশ পুলিশ মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার, পিবিআই গোপালগঞ্জ এর নেতৃত্বে মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার মামলা নং—০৪, তারিখ—০৭/০৪/২০২১ খ্রিঃ ধারা—৩৬৪/৩৪ পেনাল কোড সংযুক্ত ৩০২/২০১ এর তদন্তকারী অফিসার এসআই(নিঃ) মোঃ আল আমিন শেখসহ পিবিআই, গোপালগঞ্জ বিশেষ টিম অত্র মামলার এজাহারনামীয় এক(০১) জন আসামী আশরাফুল মোল্লা(৩৮), পিতাঃ আকবর আলী মোল্যা, মাতাঃ মোছাঃ রাশিদা খাতুন, সাং—বোড়ামারা, থানা+জেলাঃ নড়াইল কে নড়াইল জেলার সদর থানা এলাকা হতে ইং— ২২/০৪/২০২১ তারিখ গ্রেফতার করা হয়।

 

অত্র মামলার ডিসিস্ট (১) মোয়াজ্জেম সরদার (৫০), পিতাঃ মৃত মফেজ সরদার, (২) মাকসুদা বেগম (৪৫), জং—মোয়াজ্জেম সরদার, উভয় সাং—কোলচড়ী স¦স্তাল, থানাঃ কালকানি, জেলাঃ মাদারীপুর দ্বয়কে গত ইং—০৫/০৪/২০২১ তারিখ দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি হতে নিঁখোজ হয়। উক্ত ঘটনায় তার জামাতা এমরান সরদার(৩০) বাদী হয়ে কালকিনি থানার মামলা নং—০৪, তারিখ—০৭/০৪/২০২১ খ্রিঃ ধারা—৩৬৪/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। পরবতীর্তে গত ইং—০৯/০৪/২০২১ তারিখ ডিসিস্টদ্বয়ের মৃত দেহ স্থানীয় লোকজন তাদের নিজ বাড়ি হতে অনুমানিক ২৫০ গজ দূরে নির্জন স্থানে দেখতে পেয়ে সংবাদ দিলে কালকিনি থানা পুুলিশ মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তত করে এবং মৃত্যুর কারণ জানার জন্য ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। মামলাটি পিবিআই গোপালগঞ্জ স্ব—উদ্যোগে গ্রহন করে তদন্তভার এসআই(নিঃ) আল আমিন শেখ এর উপর অর্পণ করিলে, এসআই(নিঃ) মোঃ আল আমিন শেখ, এসআই(নিঃ) অখিল কুমার বিশ^াস, এসআই(নিঃ) হিমানিষ বিশ^াস ও সঙ্গীয় ফোর্স এর সমন্বয়ে গঠিত একটি অভিযানিক দল গত ইং—২২/০৪/২০২১ তারিখ নড়াইল জেলার সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তথ্য—প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত মামলার প্রধান আসামী আশরাফুল মোল্লা(৩৮) কে গ্রেফতার করেন।

 

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ডিসিস্ট মোয়াজ্জেম সরদার গত ২৮/০৩/২০২১খ্রিঃ তারিখে ফরিদপুর কৃষেন (শ্রমিক) হাট থেকে কৃষি কাজ করার জন্য ধৃত আসামী আশরাফুল মোল্লা এবং ভোলারাও নামের দুই জন শ্রমিক বাড়ীতে আনে। বাড়ীতে ডিসিস্টদ্বয় তাদের কন্যা আন্তানুর(১৪) ও নুসরাত(০৬)’কে নিয়ে বসবাস করতো। আসামী আশরাফুল মোল্লা ডিসিস্ট মোয়াজ্জেম সরদার বাড়িতে কাজে যাওয়ার পর থেকেই ডিসিস্ট এর কন্যা আন্তানুর এর প্রতি তার কু—দৃষ্টি ছিল।

 

 

ধৃত আসামী আশরাফুল মোল্লা বিভিন্ন সময় কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই ডিসিস্টদ্বয়ের কন্যা আন্তানুর(১৪) এর সাথে গল্প করতো এবং তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করতো। উক্ত বিষয়টি ডিসিস্টদ্বয়ের নজরে আসলে তারা মেয়ের উজ্বল ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে ধৃত আসামী আশরাফুল’কে আন্তানুর(১৪) এর সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দেয়। কিন্তু বিকৃতমনা আসামী আশরাফুল মোল্লা ডিসিস্টদ্বয়ের মেয়ে আন্তানুর এর প্রতি তার যৌন লালসা চরিতার্থ করার সুযোগ খুজতে থাকে এবং মনে মনে পরিকল্পনা করে যে, আন্তানুর এর বাবা— মাকে খুন করে সে রাতে ঘরে প্রবেশ করার পথ তৈরী করবে।

 

 

সেই মোতাবেক ধৃত আসামী আশরাফুল মোল্লা তার পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক গত ইং ০৫/০৪/২০২১ তারিখ রাতে প্রথমে ডিসিস্ট মোয়াজ্জেম সরদারকে কৌশলে বসতভিটা থেকে আনুমানিক ২৫০ গজ দুরে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে তার গলায় গামছা পেচিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। পরবতীর্তে একই কৌশল অবলম্বন করে ডিসিস্ট মাকসুদা বেগমকে একই স্থানে ডেকে নিয়ে একই গামছা দ্বারা গলায় পেচিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। পরবতীর্তে মধ্য রাতে আসামী আশরাফুল মোল্লা ডিসিস্টদ্বয়ের বাড়িতে গিয়ে তার গৃহে প্রবেশ পূর্বক ঘরে থাকা নাবালিকা মেয়ে আন্তানুরকে কৌশলে ফুসলিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। যাবার সময় আসামী আশরাফুল মোল্লা ডিসিস্টদ্বয়ের ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। মোবাইল ফোন দুইটি আসামীকে গ্রেফতার করার সময় তার হেফাজত হতে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

গ্রেফতারকৃত আসামী আশরাফুল মোল্লা(৩৮) ইতিপূর্বে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার ভূয়া পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অভিভাবকদের ফুসলাইয়া বিভিন্ন নারীদের সহিত শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করিয়া আসিতেছিল। ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী আশরাফুল মোল্লা(৩৮) এর বিরুদ্ধে যশোর, নড়াইল ও রাজশাহীতে ৫টি মামলা চলমান রয়েছে।

 

 

গ্রেফতারকৃত আসামী আশরাফুল মোল্লা(৩৮)কে অদ্য ২৩/০৪/২১ খ্রিঃ বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে নিজেকে জড়িয়ে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করেন যাহা তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হলো।

 

 

অভিযানের নেতৃত্বেকারী অফিসার ঃ—জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গোপালগঞ্জ, মোবাইলঃ ০১৩২০—০২৯০২৫। তদন্তকারী অফিসার ঃ—এসআই (নিঃ) মোঃ আল—আমিন শেখ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গোপালগঞ্জ, মোবাইলঃ ০১৭১০—১৭১৬১৬.


error: Content is protected !!