ঢাকা, বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সাবমেরিন কেবলে বিদ্যুৎ যাবে মূল ভূ-খন্ড থেকে বি‌চ্ছিন্ন বরিশালের মেঘনার চরে

বরিশাল ‍প্রতিনিধি: মেঘনা তীরের পিঠাপিঠি ইউনিয়ন জাঙ্গালিয়া আর চরগোপালপুর। ইউনিয়নের দুই পাশে মেঘনা। অপর দুই দিকে তেতুলিয়া আর মাসকাটা। দুটি ইউনিয়ন এখনো অন্ধকারে নিমজ্জিত। পাশের ইলিশা আর কালাবদর নদী তীরের আলিমাবাদ আর শ্রীপুর ইউনিয়ন। তারও অংশ বিশেষে বিদ্যুতের আলো এখনো পৌঁছায়নি। নদীর বুকে জেগে ওঠা চারটি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজারের জনবসতি।

 

 

সেই চরে যাতায়াত করাই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে বিদ্যুৎতের আলো পৌঁছাবে-এমনটা ভাবা ছিল অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নই বাস্তবে দেখছে মেঘনা নদীবেষ্টিত জাঙ্গালিয়া, চরগোপালপুর, আলিমাবাদ আর শ্রীপুর ইউনিয়নের ৩৬ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে তারা পাচ্ছে এ বিদ্যুৎ। এজন্য বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষের মনে বইছে আনন্দের জোয়ার।

 

 

নদীবেষ্টিত বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষকে নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে এ উপজেলার মানুষ সাবমেরিন ক্যাবলের সহায়তায় বিদ্যুতের আলোয় তারা আলোকিত হচ্ছেন।

 

 

যার ধারাবাহিকতায় রবিবার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা থেকে মাসকাটা নদীর তলদেশ হয়ে জাঙ্গালিয়া, চরগোপালপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তীরে এক হাজার ৭০০ মিটার সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন কাজের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ মাসকাটা নদীতে সাবমেরিন ক্যাবলে স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন।

 

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৩৬টি গ্রাম ভুতুড়ে জনপদে পরিণত হয়। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় বাজারগুলোও জনশূন্য হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের আলো এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এখনো স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। বিদ্যুতের আলো পাবেন এই ভাবনায় তাদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। তারই অংশ হিসেবে মাসকাটা নদীর তলদেশ হয়ে জাঙ্গালিয়া, চরগোপালপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তীরে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন কাজ শুরু হয়েছে।

 

 

চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাসছুল বারী মনির বলেন, গ্রামগুলো শত বছরের পুরোনো চরে অবস্থিত। মেঘনা নদী এসব চরকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করেছে। এর এক পাশে ভোলার সীমানা। নৌযান ছাড়া চরে যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। এসব চরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে, এটা কল্পনার বাইরে ছিল।

 

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, চারটি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে একাধিক নদী বয়ে গেছ। বিশেষ করে মেঘনা নদী ইউনিয়নগুলাকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করেছে। ইউনিয়ন চারটিতে অন্তত ৩৬টি গ্রামের অধিকাংশই মেঘনার চরে। জেলা শহর থেকে সড়কযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অন্তত ৭০ কিলোমিটার দূরে এসব গ্রাম অবস্থিত।

 

গ্রামগুলোয় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বাস। চরগুলোয় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। এসব চরে বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন স্থানীয় সাংসদ পঙ্কজ নাথ। কিন্তু মেঘনা পেরিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের সাহায্যে বিদ্যুৎ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংসদ পঙ্কজ নাথ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চারটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ শুরু করেছি। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সারা বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

 

উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুতের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান, আলাউদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী অনিল কুমার সরকার, এজিএম সাইদুল মুরসালিন, সহকারী প্রকৌশলী শাহে আলম, এজিএম সাইদুল মুরসালিন প্রমুখ।


error: Content is protected !!