ঢাকা, বুধবার, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জাজিরায় শুরু হয়েছে মাদ্রাজী ওলকচু ও গাছ আলুর চাষ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় কন্দ তথা কচু জাতীয় ফসলের সংযোজন ঘটাতে এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করনের পাশাপাশি আমদানি বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কন্দল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম বারের মত জাজিরাতে ওলকচু ও গাছ আলুর চাষ।

 

 

২০২০-২১ অর্থ বছরে উপজেলায় ৫ জন কৃষকের মাধ্যমে মাদ্রাজী ওলকচু এবং দুইজন কৃষকের মাধ্যমে গাছ আলু চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ওলকচু ও গাছ আলুতে রয়েছে উপকারী আশ ছাড়াও শর্করা ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ লবন। কচু জাতীয় ফসলের উৎপাদন খরচ কম এবং বসত বাড়ির আশাপাশে কম উর্বর জায়গায় ও চাষ করা যায়। চাষে বিষ প্রয়োগ করত্ব হয় না বলেই চলে এবং বাজারে এর ভাল চাহিদা রয়েছে।

 

 

ওলকচু ও গাছ আলু চাষ নিয়ে কথা হয় ওলকচু চাষী বড়কান্দি ইউনিয়নের ডুবিসায়বর গ্রামের কাজি ফারুক বলেন” এই ওল কচু আগে ত করিনাই তয় কৃষি অফিস থেকে কইছে ভাল হবে ও দাম পামু তাই করছি, এহন পর্যন্ত দেখতে ভালই লাগছে আশাবাদী এর ফলন ভাল হবে। খরচ খুব সীমিত ঝামেলা ও কম এবার লাভ পেলে আগামীতে আমি ও সহ অন্যান্য কৃষক ও করবে”” ওল কচু বাসতবায়নে তদারকি করে যাচ্ছে।

 

 

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন ” জাজিরাতে কন্দ জাতীয় ফসলের চাহিদা আছে কিন্তু উৎপাদন তেমন নেই তাই আমরা এই বছর ওলকচু, গাছ আলু সহ পানি কচু ও মুখী কচু লতির প্রদর্শনী অফিস থেকে দেয়া হয়েছে যেখানে রোপণ থেকে শুরু করে নিয়মিত বিভিন্ন কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি যাতে কৃষক ভাল ফলন ও দাম পায় “।

 

 

উল্লেখ্য জাজিরাতে বর্তমানে নানা ধরনের নিত্য নতুন ফসলের জাত ও প্রযুক্তি বিস্তারে উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় অনেক কাজ করে যাচ্ছে যার সুফল জাজিরার মানুষ ইতিমধ্যে পাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ তেও পাবে।

 

 

এই বিষয়ে কথা হয় জাজিরা উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জামাল হোসেন এর সাথে। তিনি বলেন ” দেশে কন্দ জাতিয় ফসলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে কিন্তু উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম সে বিষয় নিয়ে সরকার দেশে কন্দ জাতিয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ফলে আমরা এই ওলকচু, গাছ আলুর মত অপ্রচলিত অথচ উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিতে পেরেছি এর ফলে এর দেশীয় চাহিদা মেটিয়ে কোরিয়া, জাপান সহ অন্যান্য দেশে ও যা রপ্তানি করা সম্ভব হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা এই ফসল উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ পরে কম লাভ বেশি কারন এই সব কচু জাতীয় ফসল বাজারে আসে এমন একটা সময়ে যখন অন্যান্য সবজি তেমন একটা থাকে না ফলে সবাই কিনতে পারে এবং এটি নিরাপদ কারন বালাইনাশক ব্যবহার নাই বললে চলে ” উল্লেখযোগ্য জাজিরাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে এ বছর ওলকচু, গাছ আলু ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি কচু, লতি কচু, মুখী কচু, আলু, মিষ্টি আলু সহ নান কন্দ জাতিয় ফসলের উৎপাদন করতে প্রদর্শনী স্থাপন সহ কৃষক কৃষানী প্রশিক্ষণ এবং মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষক সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।।


error: Content is protected !!