ঢাকা, বুধবার, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরের মাহাতাবের বাঁশির সুরে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি এসে বসে তার শরীরে

জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরের মাহাতাব মোড়লের বাঁশির সুরে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি তার শরীরে এসে জড়ো হয়। মৌমাছির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এ অভ্যাস গড়ে তুলেছেন তিনি। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উৎসুক মানুষ মাহাতাবের বাড়িতে এখন ভীড় করছে। ফলে তিনি এখন এলাকায় মৌমাছি মাহাতাব নামে পরিচিত লাভ করেছেন।

 

জানা গেছে, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামে মাহাতাবের বাড়ি। তিনি ১২ বছর বয়স থেকেই মৌচাক থেকে মধু আহরণ করতে শুরু করেন। এ সময় তিনি বালতিতে শব্দ করে চাক থেকে মৌমাছি দূরে সরিয়ে দেয়ার কৌশল রপ্ত করেন । এর পর টিনের থালায় শব্দ শুনে মৌমাছি চাক ছেড়ে তার কাছে আসতে শুরু করে। কাছে আসার এমন দৃশ্য থেকে মধু সংগ্রহকারী মাহাতাবের মৌমাছির প্রতি তাঁর ভালোবাসা জন্মায়। ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে মধু আহরণের পর এর উচ্ছিষ্ট কাপড়ে লাগিয়ে বাড়ির চারপাশে ঝুলিয়ে রাখেন মাহাতাব। ওই কাপড়ে মৌমাছি বসে খাবার গ্রহণ করে তার বাড়ির এলাকায় উড়ে বেড়ায়। একপর্যায়ে তিনি টিনের থালা বাদ দিয়ে বাঁশিতে সুর তুলে মৌমাছিকে কাছে আনতে থাকেন। কৌশলগত ওই সুর শুনে হাজারও মৌমাছি তার শরীরে জড়ো হয়।

 

এ ব্যাপারে মাহাতাব মোড়ল জানান, ২০ বছর ধরে তিনি মধু সংগ্রহ করছেন। তার বাবার নাম মৃত কালাচাঁদ মোড়ল। বাবার বাড়ি ছিল সুন্দরবন-সংলগ্ন কয়রা উপজেলায়। বাবার বৈবাহিক সূত্রে তাদের কেশবপুরের মোমিনপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস। সুন্দরবনসহ সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে তিনি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। মধুর চাক ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে তার মৌমাছির প্রতি ভালোবাসা জন্মায়।

 

প্রথমে বালতি, টিনের থালার মাধ্যমে একটি-দুটি মৌমাছি শরীরে বসতে থাকে তার। আর এখন বাঁশির সুরে হাজারও মৌমাছি এসে বসে। মৌমাছি বসতে বসতে শরীর তার মৌচাকের আকার ধারণ করেছে।

 

মৌমাছি শরীরে কামড় দেয় কি-না জানতে চাইলে মাহাতাব বলেন, ‘এর জন্য শরীরকে আগে থেকেই প্রস্তুত করতে হয়। তাদের আঘাত না করলে একটি মৌমাছিও শরীরে হুল বসায় না’। কতদিন বাঁশির এ কৌশল রপ্ত করেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মৌসুমেই বাঁশির সুর রপ্ত করেছি’। গত ৭ জুন২০২১ মাহাতাবের বাড়িতে বাঁশির সুর শুরু করলেই হাজারও মৌমাছি শরীরে জড় হয়। এ দৃশ্য দেখার জন্য শত শত উৎসুক মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন।

 

মাহাতাব গর্ব করে বলেন, এটি কেবল মৌমাছির প্রতি ভালোবাসা থেকেই সম্ভব হয়েছে। এতে কোনো তন্ত্র-মন্ত্র নেই। বাড়িতে বাঁশি বাজিয়ে পাঁচ মিনিটেই তিনি শরীরে হাজারও মৌমাছি জড়ো করতে পারেন। কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অভ্যাস হয়ে যাওয়ায় কোনো ভয় লাগে না। মধু আহরণ করেই তার সংসার চলে। সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

 

এ ব্যাপারে হাসানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক জুলমত আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন মাহাতাব মোড়ল মধু ভেঙ্গে বেড়ায়। বাঁশির সুরে মৌমাছি শরীরের আনার কৌশল রপ্ত করায় এলাকায় তিনি মৌমাছি মাহাতাব নামে পরিচিত লাভ করেছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে তার বাড়িতে মানুষ ওই দৃশ্য দেখতে ভীড় করছে বলে তিনি জানান ।


error: Content is protected !!