ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

লন্ডনে আল্লামা দুবাগী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)’র ১ম বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, মুনাযীরে আযম, বাহরুল উলুম, উস্তাদুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, শায়খুল হাদীস, মুফতিয়ে আযম, পীরে কামিল, হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)’র ১ম বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার (১০/০৭/২০২০ইং) সকাল ১০টায় মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়, খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, খতমে দালাইলুল খাইরাত ও যিকির মাহফিলের পাশাপাশি স্মৃতিচারণমূলক আলোচনায় অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিবাহিত হয় পুরো দিন।

 

লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ব্রিকলেন জামে মসজিদে আল্লামা দুবাগী (রহ.) ঈসালে সাওয়াব মাহফিল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী বড় ছাহেবজাদা আল্লামা জিল্লুর রহমান চৌধুরী দুবাগী। মাওলানা ওলিউর রহমান চৌধুরী দুবাগী ও মাওলানা আমিনুল ইসলাম জলঢুপির যৌথ পরিচালনায় শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন দুবাগী ছাহেবের ছোট ছাহেবজাদা ক্বারী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে নানা দেশের প্রখ্যাত আলিম উলামা, মুরীদীন, মুহিব্বীন ও সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)’র আলোকিত জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, মিনহাজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল লন্ডন এর ডাইরেক্টর আল্লামা সাদিক কোরেশী আল-আজহারী, লন্ডন মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা এমদাদুর রহমান আল-মাদানী, মুহিউল ইসলাম মসজিদের খতীব আল্লামা শের আহমদ বারকাটি, ওয়াইছ করনি মসজিদের খতীব আল্লামা সৈয়দ তারিক মাসুদ, ফাইযানে ইসলাম জামে মসজিদের খতিব আল্লামা সানাউল্লাহ ছেটি, আল-হীরা মসজিদের খতিব আল্লামা ক্বারী তারিক মাহমুদ,  আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)’র জামাতা মুফতি সৈয়দ মাহমুদ আলী, ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের ডিরেক্টর অফ স্ট্রাটেজি এন্ড পলিসি ব্যারিস্টার ফয়সাল খাঁন, যুক্তরাজ্য আঞ্জুমানে আল-ইসলাহর সভাপতি আল্লামা আব্দুল জলিল, লন্ডন দারুল হাদিস লতিফিয়ার সাবেক প্রিন্সিপাল মুফতি ইলিয়াস হোসেন,  ওল্ডহাম মদিনা মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা রফিকুল হক, আছিরখাল মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাওলানা আব্দুস সবুর, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইকরা টিভি লন্ডনের আলোচক ও ‘জামেয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়া সিলেট’ এর প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আব্দুল মুন্তাকিম,   লতিফিয়া উলামা সোসাইটির সভাপতি মাওলানা শিহাব উদ্দিন, ব্রিকলেন জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা নজরুল ইসলাম,  গ্রীনিচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডঃ আব্দুল আলী, নূরে মদীনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা শফিকুর রহমান বিপ্লবী, লেস্টার দারুস সালাম মসজিদের ইমাম ও খতিব  হাফিজ মাওলানা আব্দুল জলিল, বার্মিংহাম ডারলিস্টন সুন্নি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব অ্যাডভোকেট মাওলানা সালেহ আহমদ মনসুরী, ওল্ডহাম শাহ পরান মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম,  জামিয়াতুল উম্মাহ লন্ডনের সিনিয়র  উস্তাদ মাওলানা মুমিনুল ইসলাম ফারুকী, মাওলানা রফিক আহমদ কানাইঘাটি, ক্বারী মাওলানা ইউনুস আহমদ,  লন্ডন আল-ইসলাহ ডিভিশনের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, পীরে কামিল হযরত আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.) আধ্যাত্মিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। প্রত্যেক মনীষীই বিশেষ কোন গুণ ও বৈশিষ্ট্যের কারণে খ্যাতি লাভ করেন। এজন্যই তিনি দুনিয়া হতে বিদায় নিলে তাঁর মত আরেকজন পাওয়া যায় না। ‘‘প্রত্যেক ওলীর আলাদা স্থান থাকে”। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা এ ওলীর মাঝে ‘‘জামেইয়্যত” তথা অসংখ্য শান ও গুণের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তাঁর মত একাধারে একজন বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন সৌন্দর্যে সুসজ্জিত কামিল-মুকাম্মাল, সচ্চরিত্রবান, তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন, প্রখ্যাত সাহিত্যিক, লেখক ও গবেষক, বিজ্ঞ ফকীহ, দক্ষ মুহাদ্দিস, মুজাব্বিদ ক্বারী, বিচক্ষণ সংগঠক, খাঁটি পীর, সাহসী মুজাহিদ, দরদী দাঈ ও ওয়াইজ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল। মুত্তাকি ও পরহেজগারের নমুনা কেহ দেখতে চাইলে সে যেন দেখে নেন এই আল্লামা দুবাগী ছাহেব কিবলাহ (রহ.)কে। সারা জীবন যিনি আল্লাহর স্বরণ ও দ্বীনের ফিকিরে কাটিয়েছেন। ইন্তিকালের পূর্বের দিনগুলোও যিনি যিকির, নামায ও দ্বীনের তা’লীমের পরিবেশে কাটিয়েছেন। এমনকি হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় ও তিনি তাঁর মাওলাকে ভুলেননি। ইন্তিকালের পূর্বক্ষণে ও তিনি সূরা ইয়াসিন পড়তে ছিলেন।

 

একজন কামিল বা হক্কানী পীরের মধ্যে যেসব গুন থাকা আবশ্যক, পীরে কামিল হযরত আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)’র মধ্যে খোদার ফযলে সবগুলোই ছিল। মানুষ অন্তরের অন্তরস্তল হতে তাঁকে শ্রদ্ধা করত। বস্তুত: তিনি ছিলেন “সর্বজন শ্রদ্ধেয়” কথাটির যোগ্য পাত্র। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, আলেম-আওয়াম, ব্যবসায়ী-শ্রমিক এমনকি বড় বড় সরকারী অফিসার, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ নির্বিশেষে সবস্তরের মানুষের কাছে ছিল তাঁর অতুলনীয় গ্রহণ যোগ্যতা। সবখানেই তিনি ছিলেন একান্ত শ্রদ্ধার পাত্র।

 

তিনি ছিলেন আম খাছ সবার দোয়ার কেন্দ্রস্থল। যে কোন বিপদে-আপদে যখন মানুষ নিরুপায় হয়ে যেত, তখন আল্লামা দুবাগী ছাহেবের কাছে দোয়ার জন্য হাজির হত। কাছ দূর থেকে মানুষ দোয়ার জন্য তাঁর কাছে আসত। ব্রিটেনে অনেক দুরে দুরে বড় বড় মাহফিলে তাঁকে দোয়ার জন্য অনুরোধ করে নেওয়া হত। তিনি ছিলেন শামসুল উলামা হযরত আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.)’র প্রথম সারীর সুযোগ্য অন্যতম খলিফা।

 

আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব রাহিমাহুল্লাহ দ্বীন ইসলাম ও ইলমে হাকিকীর প্রচার-প্রসারে উৎসর্গীকৃত ছিলেন। জন্মভূমি বাংলাদেশে অবস্থানকালে ইলম অর্জনের পর বিভিন্ন মাদরাসায় প্রিন্সিপাল, শায়খুল হাদীস ও মুফতী ছিলেন। বিলাতে পাড়ি দেয়ার পর লেস্টার দারুসসালাম মসজিদ ও নিউক্রস জামে মসজিদ এবং ব্লাকবার্ন শাহ জালাল জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন ইউকে ওলামা সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১৯৮০ সালে সৈয়দপুরের ঘটনার পর ইউকে আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

মুনাযীরে আযম আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.) বিলাতবাসী মুসলমানদের আমন্ত্রণে ১৯৭৮ সালের ১লা জানুয়ারী লেস্টার শহরে গমন করেন। যুক্তরাজ্যে তিনি সর্বপ্রথম জৈনপুরী মসলকের ভিত্তিস্থাপন করেন, তাঁর পূর্বে বিলাতে এ মসলকের কোন আলিম উলামা ছিলেন না। একই বৎসর ১৯৭৮ সালের ২রা জুন শামছুল উলামা হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) প্রথমবারের মত ব্রিটেন সফর করেন। দুবাগী ছাহেব বিলেতবাসীকে সংগঠিত করে ফুলতলী ছাহেব কিবলাহকে ব্রিটেনে এক বিশাল ঐতিহাসিক অভ্যর্থনা জানান। আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.) জনগণকে উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে যুক্তরাজ্যের কোণায় কোণায় ফুলতলী ছাহেবের ওয়াজ মাহফিলের ব্যবস্থা করেন। তিনি ফুলতলী ছাহেবের এ সফরকে সফল করার জন্য বাংলা, ইংরেজী, উর্দু, হিন্দী, ও গুজরাটি ভাষায় সর্বাধিক প্রচার প্রচারণা করেন। এই সফরেই দুবাগী ছাহেব স্বীয় পীর ও মুর্শিদ আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.)’র সাথে ব্রিটেনে মুসলমানদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দ্বীনি শিক্ষার কথা আলোচনা করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা পেশ করেন। ফুলতলী ছাহেব এ সফরেই লন্ডনে মাদ্রাসার ভিত্তিস্থাপন করেন, তখন এই মাদ্রাসার নাম ছিল মাদ্রাসা-এ-দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া। পরবর্তীতে এই মাদ্রাসার নাম করণ হয় লন্ডন দারুল হাদীস লাতিফিয়া।

 

তাঁর কর্ম জীবন এর একটা বড় অংশ ব্রিটেনের লেস্টার শহরের দারুস সালাম মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা এবং খতীব হিসেবে কাটিয়েছেন বলে ব্রিটেনে তিনি লেস্টারের ছাহেব নামে সুপরিচিত ছিলেন। ব্রিটেনে দুবাগী ছাহেবের কারণে লেস্টারই ছিল ফুলতলী মসলকের হেডকোয়াটার বা প্রধান কেন্দ্র। ব্রিটেনে এই লেস্টার শহরেই ফুলতলী ছাহেব সর্বপ্রথম গমন ও অবস্থান করেছিলেন, প্রথমে সেথানেই সকল মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্টার পরিকল্পনা করা হয়। দুবাগী ছাহেবের মাধ্যমে এ মছলকের সকল কাজ কর্ম পরিচালিত হত এবং ইউকে আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ লেস্টারেই প্রতিষ্টিত হয়েছিল।

 

শায়খুল হাদীস আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.) লেস্টারে প্রতিদিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দরসে হাদিস তথা ইসলামিক আলোচনা করতেন। প্রতি রবিবারে কোরআন থেকে তাফসীর করতেন। বৃহস্পতিবারে খানকা তথা জিকির ও এবাদতের অনুষ্ঠান ছিল খুবই জনপ্রিয়। তাঁর প্রচেষ্টায় অনেক সাধারণ মানুষকে আলিমে পরিণত করেন। এভাবে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রায় সকল শহরে ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হয়ে সাধারণ মানুষকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা দিয়েছেন। কোরআন, হাদীস ও মাছলা মাছাইল নিজ হাতে লিখে বিলাতে ইসলাম প্রচার করেন।

 

তিনি ছিলেন ব্রিটেনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের এক বর্ষীয়ান দিকপাল। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা বিশ্বাস প্রচার ও প্রসারে তাঁর অবদান মুসলিম উম্মাহ সর্বদা মনে রাখবে। এ মহান বুজুর্গ পরিপূর্ণভাবে শরিয়তের অনুসারী ছিলেন। ওয়াজ নসীহত, মুনাজিরা ও লেখনীর মাধ্যমে তিনি দ্বীনের সঠিক শিক্ষা প্রসারে আমৃত্যু চেষ্টা করে গেছেন।

 

মুফতিয়ে আযম হযরত আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ) মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে বিস্মিত হবার মত প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। যে কোন কঠিন মাসলায় তাঁর দালিলিক সমাধান সর্বদলীয় ওলামায়ে কেরামের কাছে ঐক্যমতে গ্রহণযোগ্য ছিল। বিভিন্ন শহর থেকে ইমাম ও খতীবগণ তাঁর খেদমতে হাজির হয়ে জঠিল মাসালাগুলোর সমাধান জানতে চাইতেন। নিয়মিত তিনি কোরআন, হাদীস ও কিতাব চর্চা করতেন। তিনি অসংখ্য দেশ সফর করেছেন। আরবী, উর্দু ও ফার্সি ভাষায় তাঁর অগাধ পান্ডিত্য ছিল এবং এসব ভাষায় অনর্গল বক্তৃতা দিতেন।

 

মেহমানদারি ছিল তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, মেহমানদের আদরযত্ন এবং নিজ হাতে মেহমানদারি করতেন। খেদমতে খালক বা মানবকল্যাণে নিবেদিত একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবেও তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সর্বদা এতীম, বিধবা ও গরীবদেরকে দান খয়রাত করতেন। আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.) একজন তাসাউফপন্থী খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন হয়েও তিনি ছিলেন আজীবন বাতিল ও খোদাদ্রোহী শক্তির বিরুদ্ধে নির্ভীক বজ্রকণ্ঠ মর্দে মোজাহিদ। গর্জে উঠতেন যে কোন ইসলামবিরোধী কাজকর্মের বিরুদ্ধে।

 

আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব গত বৎসর ১০ জুলাই ২০২০ইং রোজ শুক্রবার জুম্মার পূর্বক্ষনে বার্ধক্য জনিত কারণে মাওলায়ে হাকিকীর সাড়া দিয়ে তাঁর পরিবার পরিজন অগনিত ভক্তমুরীদ আর দেশবাসীকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ক্ষণস্থায়ী এ দুনিয়া ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)’র ইন্তেকালের পর তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বিশেষভাবে প্রতীয়মান হয়। বিশ্বের বুকে সর্বস্তরে দলমত নির্বিশেষে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইন্তেকালের খবর ইলেকট্রিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, সোস্যাল মিডিয়া ও জাতীয় মিডিয়াসমূহ সকল পত্র-পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ ও আঞ্চলিক পত্রিকায় গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে।

 

সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে শোকাতুর হৃদয়ের অভিব্যক্তি আসতে থাকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইয়ামন, সিরিয়া, জর্দান, মিশর, সৌদি আরব,কুয়েত, ডুবাই, আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ইত্যাদি থেকে আসতে থাকে শোকবার্তা। আর দোয়া-দুরুদ শুরু হয় সকল মসজিদ-মাদরাসায়। অসংখ্য কুরআন খতম হয়।

 

তাঁর ইন্তেকালে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরাম ও পীর মাশায়েখ সহ বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসলিম, ব্রিটিশ এমপি এবং বাংলাদেশের অনেক এমপি ও মন্ত্রী শোক বার্তা প্রেরণ করেছেন। সারা বৎসর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবং বাংলাদেশে শহরে ও গ্রামে গঞ্জে বিশ্বব্যাপী করোনাকালীন সময়ও তাঁর জন্য দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

 

বক্তারা আরো বলেনঃ আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)’র মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোটেই শেষ হয়ে যাননি। কখনো ও যাবেনও না। আল্লাহর  মহিমায় তিনি তাঁর অবিস্মরণীয়  কীর্তির মধ্য দিয়ে চির জাগরুক থাকবেন। যত দিন তাঁর তৈরী মসজিদ, মাদ্রাসা ও লেখনী থাকবে। ততদিন ইট পাথর থেকে শুরু করে প্রতিটি ধুলি কনা তাঁর বিরহে কাঁদবে স্মরণ করবে তাঁর মেহনত।

 

সর্বশেষে এ মহতী অনুষ্ঠানে মীলাদ পাঠান্তে দোয়া পরিচালনা করেন দুবাগী ছাহেবের সুযোগ্য বড় ছাহেবজাদা আল্লামা জিল্লুর রহমান চৌধুরী দুবাগী।


error: Content is protected !!