ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ছিন্নমূল মানুষ টিকার নিবন্ধন করলেই পাচ্ছেন তিন দফা খাদ্য সহায়তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ব্যতিক্রমধর্মী অভিনব পদ্ধতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকার জন্য নিবন্ধন ও বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ নিবন্ধন কেন্দ্রে অসহায় দরিদ্র মানুষ কেউ টিকার জন্য নিবন্ধন করলে তিন-তিনবার বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

 

নিবন্ধন করার সময় একবার খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরপর প্রথম ডোজ নেয়ার পর টিকাকার্ড দেখালে আরও একবার এবং দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করলে আরও একবার এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার মাধ্যমে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

বুধবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অসহায় দরিদ্র নারী ও পুরুষরা জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে টিকার নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভেতরে কয়েকজন যুবক কম্পিউটার ও প্রিন্টার নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে তথ্য লিখে করোনার নিবন্ধন কার্ড দিচ্ছেন।

 

যারা নিবন্ধন করছেন তাদেরকে চাল, ডাল, আলু, লবণ ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর একটি করে প্যাকেট পাচ্ছেন। হ্যান্ড মাইকে সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড সংগ্রহ করে খাদ্য সহায়তা নিতে বলার পাশাপাশি জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, তারা প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে আরও দুইবার খাদ্য সহায়তা পাবেন।

 

এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রণোদনা কার্যক্রমের প্রধান উদ্যোক্তা ডাকসুর সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। তিনি জানান, গত বছর করোনার শুরু থেকে তিনি শহরের ছিন্নমূল ভাসমান মানুষকে ১২১ দিন ধরে দৈনিক এক হাজার মানুষকে দু’বেলা করে খাবার রান্না করে বিনামূল্যে বিতরণ করে আসছেন। ইতোমধ্যেই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ থেকে রিয়েল লাইফ হিরো খেতাবও পেয়েছেন তিনি।

 

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সরকার দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার টার্গেট নিয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের ৬০ শতাংশ মানুষের তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান নেই। যেহেতু সুরক্ষা অ্যাপ অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হয়, তাই ছিন্নমূল ভাসমানসহ অনেকের এ সম্পর্কে জ্ঞান নেই। মূলত তাদের জন্যই এ প্রণোদনামূলক উদ্যোগটি গ্রহণ করা। এছাড়াও অনেকের মধ্যেই টিকাগ্রহণ নিয়ে গুজব ও অনীহা রয়েছে। গত ১৯ জুলাই থেকে টিকা নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ইতোমধ্যেই গতকাল পর্যন্ত ৬২০ জন নিবন্ধন করেছেন।

 

তিনি বলেন, যারা নিবন্ধন করছেন তাদের সবাইকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে না বা নিচ্ছেনও না। তাদের মধ্যে যারা অসহায় দরিদ্র আয়-রোজগার নেই এবং খাদ্য পাচ্ছে না তাদেরকে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০ জনকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সেচ্ছাসেবী হিসেবে অনেকের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে এ কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।


error: Content is protected !!