ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে হাসপাতাল আছে ডাক্তার নাই : চিকিৎসা সেবা ব্যহত

পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

এম জামান রাজ , স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি : করোনা প্রাক্কালে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগী দিশেহারা হয়ে হাতুড়ে চিকিৎসকের সরণাপন্ন হচ্ছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

 

২৮ জুলাই বুধবার সকালে সরজমিনে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক -সেবিকা সহ হাসপাতালের স্টাফ সংকটে চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন গনমাধ্যমে বারবার খবর প্রচার করেও সুবিধা পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। উপজেলার একমাত্র সরকারী হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবার নাজুক অবস্থা।

 

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিজয় কুমার দেব বলেন, করোনা প্রাক্কালে এক্সরে ও গাইনি বিভাগের সরঞ্জামাদি থাকা সত্বেও রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বাহিরের প্যাথলজি ও জেলা সদরে যাইতে হয়। নিন্মবিত্ত ও প্রত্তন্ত অঞ্চলের রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসক না পেয়ে বিভিন্ন ফার্মেসীতে ফার্মাসিস্টদের , হাতুড়ে ডাক্তার, পানি পড়া, বৈদ্যালি ও কবিরাজি চিকিৎসার প্রতি ঝুঁকে পরছে। এসব অপচিকিৎসায় অনেকেই এক রোগের রোগী থেকে নানাহ জটিল রোগের রোগী হয়ে কাৎরাচ্ছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করে শূন্য পদগুলো পুরণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরে ২৮ জুলাই পর্যন্ত কোভিট ১৯ এর ১৫১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৮৩ জনে উপসর্গ সহ আক্রান্ত হয়েছেন। তন্মধ্যে ৩৬ জন সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। ২ জন মৃত্যু বরন করেছেন। বাকী ৪৫ জন হোম কোয়ারাইন্টানে আছেন।

অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ১৩ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন দুইজন। দু’জন মেডিক্যাল এ্যসিস্টেন্টের জায়গায় আছেন একজন। চৌদ্দজন সেবিকার বিপরীতে আছে ছয়জন। যে দুইজন চিকিৎসক রয়েছেন তার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার অনুতোষ চাকমা, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার বিদর্শী চাকমা ও একজন মেডিক্যাল এসিস্টেন্ট শ্যামল মিত্র চাকমা । ডেন্টাল সার্জন থাকার কথা থাকলেও মাতৃত্ব জনিত কারণে কর্মস্থলে নেই। কনসালটেন্ট, মেডিসিন ও গাইনিসহ চারজন থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। গাইনি হিসেবে ডাক্তার মিনাক্ষী চাকমা পানছড়ির কর্মস্থলে নাম থাকলেও ফরিদপুরে পর্দা কেলেঙ্কারিতে হাজতবাস খেটে সাময়িক বরখাস্ত কারণে অনুপস্থিত। পাঁচটি ইউনিয়নের চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকে শুধুমাত্র উল্টাছড়ি ইউনিয়নে একজন কমিউনিটি চিকিৎসক আক্তারুজ্জামান আছেন। বাকি তিনটিতে শূন্য। ল্যাব টেকনেশিয়ান ২ জন থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র একজন। চৌদ্দ জন নার্সের বিপরীতে আছে মাত্র ছয়জন। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য পাঁচজন মালী থাকার কথা থাকলেও আছে দুইজন। অফিস সহকারী ছাড়াই চলছে স্বাস্থ্যসেবার এই বিশাল প্রতিষ্ঠান।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার অনুতোষ চাকমা জানান, করোনা প্রাক্কালে চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবায় ঘাটতি রয়েছে কথাটা সত্য। প্রতিদিন করোনার রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করতে সিভিল সার্জনের অনুমতি ক্রমে মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট হিসাবে ডেন্টিস আব্দুস সাত্তার সহ তিনজন স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন। আমাদের হাসপাতালের ডাক্তার রিপল বাপ্পি খাগড়াছড়ি সদর ও ডাক্তার আবির দীঘিনালা হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন। চিকিৎসক সংকটের কথা বারবার লেখা হচ্ছে।


error: Content is protected !!