ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করলে বাঁচতে পারে নিষ্পাপ শিশুটি!

ভেদরগঞ্জে সন্তানের চিকিৎসা করিয়ে নিঃস্ব বাবা মা, চান সহায়তা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করলেই বাঁচানো যেতে পারে শিশুটিকে। অটুট থাকতে পারে তার নিষ্পাপ হাসি। কিন্তু পিতামাতার কাছে সেই টাকা না থাকায় এখন মৃত্যু পথযাত্রী সে। তার জীবন বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বান ধনি ব্যক্তিদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার অসহায় বাবা-মা।

 

মোহাম্মদ শাফিউজ্জামান মাহিব নামের ছেলেটির বয়স পাঁচ বছর দশ মাস। তাঁর বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাইচকুড়ি গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বেকার। আগে গার্মেন্টসের কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা হাবিবা সুলতানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। কিন্তু একমাত্র ছেলে অসুখ ও তার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে আরও অকুল পাথারের মধ্যে পড়েছেন তারা।

 

চিকিৎসাপত্র দেখে জানা যায়, জন্মগতভাবে মাহিবের বিলিয়ারি এট্রেসিয়া। ত্রুটিপূর্ণ লিভার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে সে। এজন্য তার বাবা মোহাম্মদ বদিউজ্জামান ও মা হাবিবা সুলতানা জন্মের পর থেকে চিকিৎসা করাচ্ছেন। পাঁচ বছর দশ মাসে মাহিবের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকা। ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর।

 

এছাড়া কলকাতার ফর্টিস হাসপাতাল, ভেলরের সি এম সিতেও চিকিৎসা করানো হয়েছে।

 

চিকিৎসকদের মতে, একটি জটিল অপারেশনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যেতে পারে। আর অপারেশনটা করাতে হবে ভারতে। সেজন্য অস্ত্রোপচার ও আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসেবে এক কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শিশু মাহিবের দ্রুত অপারেশন করাতে হবে, তা না হলে বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু সেই অপারেশন বা চিকিৎসার খরচ বহন করা বাবা-মার পক্ষে প্রকৃত অর্থেই অসম্ভব ও অবাস্তব।

 

এ বিষয়ে হাবিবা সুলতানা বলেন, আমরা অসহায় একটি পরিবার। ছেলেটিতে বুকে নিয়ে শুধু দিন-রাত কান্নাকাটি করি। জটিল রোগে আক্রান্ত ছেলেটিকে অপারেশন করে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য দরকার এক কোটি টাকা। কিন্তু এত টাকা আমাদের কাছে নেই। তাই চোখের সামনে ছেলেটির করুণ পরিণতি দেখতে হচ্ছে। সমাজের হৃদয়বান ধনি ব্যক্তিরা সাহায্য করলে ছেলেটার হাসিটা ধরে রাখতে পারি।

 

মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বলেন, আমি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলাম। আর আমার স্ত্রী হাবিবা প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করে। ছেলের চিকিৎসা করানোর জন্য ভারতসহ বিভিন্ন হাসপাতালে দৌঁড়াতে হয়, তাই আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। আমার নিষ্পাপ ছেলেটির চিকিৎসার ভার আর নিতে পারছি না। এখনও পঁচিশ লাখ টাকা ঋণ আছি। তাই ধনি ব্যক্তিরা সাহায্য করলে সুস্থ হতে পারে আমার ছেলে।

ছেলেটির মায়ের মোবাইল ও বিকাশ নম্বর- ০১৯১৮১৫১০৭৯, ০১৭৭৫০৯৬১৪৫ এবং ন্যাশনাল ব্যাংক, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ শাখা একাউন্ট নাম্বার-০০১৪৫৩৪০১৭৫৯২।


error: Content is protected !!