ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রিভিউ বিড়ম্বনায় মুস্তাফিজদের বিদায়, প্লে-অফে কোহলির বেঙ্গালুরু

বাঁচা-মরার ম্যাচে বলটা দিল্লি ক্যাপিটালসের কোর্টেই ছিল। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে হারালেই প্লে-অফ নিশ্চিত। তবে এমন সোজাসাপ্টা সমীকরণের ম্যাচটা বের করে আনতে পারল না মুস্তাফিজুর রহমানের দল। রোহিত শর্মার মুম্বাইয়ের কাছে তারা হেরে গেল ৫ উইকেটে। দিল্লির কপাল পুড়লেও তাদের এই হারে প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে গেছে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুর।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জিতে দিল্লিকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্বাগতিক অধিনায়ক রোহিত শর্মা। মুম্বাইয়ের পেসার জসপ্রীত বুমরার বোলিং তোপে পাওয়ার প্লে’তেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে দিল্লি। সেই যে খেই হারানোর শুরু, এরপর আর ইনিংসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি দলটি। অধিনায়ক ঋষভ পান্তের ৩৩ বলে ৩৯ ও রোভম্যান পাওয়েলের ৩৪ বলে ৪৩ রানের দুটি ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট ১৫৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় তারা। মুম্বাইয়ের পক্ষে চার ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নেন বুমরা।

 

 

১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুম্বাই শুরুতেই অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে (১৩ বলে ২) হার‍িয়েছিল। তবে অপর ওপেনার ইশান কিশান এবং তিনে নামা ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে দেন। ৩৫ বল থেকে ৪৮ রানে কিশান এবং ৩৩ বলে ৩৭ করা ব্রেভিস ফিরে যাওয়ার পর মুম্বাই ইনিংসের হাল ধরেন টিম ডেভিড।

১৫ তম ওভারে টিম ডেভিড যখন ক্রিজে আসেন, মুম্বাইয়ের তখন ৩৩ বলে প্রয়োজন ৬৫ রান। ম্যাচে তখনও ভালোভাবেই টিকে ছিল দিল্লি। আর তখনই রিভিউ বিড়ম্বনায় পড়েছে দিল্লি। নিজের মোকাবিলা করা প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন ডেভিড। শার্দুল ঠাকুরের করা অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরেছিলেন এই সিঙ্গাপুরিয়ান ক্রিকেটার, দিল্লির অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক পান্ত এবং বোলার দুজনে জোরালো আবেদনও করেছিলেন। তবে আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। অধিনায়ক এবং বোলার এরপর রিভিউ নেওয়া প্রসঙ্গে লম্বা আলাপ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত দুজনেই রিভিউ নেওয়ার বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নেন।

তার কিছুক্ষণ পরেই স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে সেই বলের রিপ্লে দেখে দুইজনের মাথায় হাত। বড়সড় একটি এজ মিসের সঙ্গে প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনাটাও যে তারা দূরে ঠেলে দিয়েছেন! সেই বলের পর ১৮ তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ডেভিড খেলেছিলেন আরও দশটি বল, দিল্লির বোলারদের ছাতু বানিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ৩৪ রান। আর তাতেই মুম্বাইয়ও ৫ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে পৌঁছে যায় লক্ষ্যে। দুঃস্বপ্নের মৌসুমের শেষটা আনন্দচিত্তেই করে আইপিএল ইতিহাসের সফলতম দল মুম্বাই।

রিভিউ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় দিল্লির জন্য। মুস্তাফিজ অবশ্য এদিনও দিল্লির একাদশে জায়গা পাননি। দিল্লির এই হারে অবশ্য হাসি ফুটেছে কোহলি-ডু প্লেসিদের মুখে। মুস্তাফিজদের ব্যর্থতায় যে কপাল খুলে গেছে তাদের। দিল্লি হেরে যাওয়ায় শেষ দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর।