ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় চলন্ত দুই ফেরির সংঘর্ষে নিহত-১, এখনো সন্ধান মেলেনি নিখোঁজের

মোঃ ইব্রাহীম হোসাইন: পদ্মা নদীর শিমুলিয়া-সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝির ঘাট নৌ-রুটে দুই চলন্ত ফেরির মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। এসময় আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

 

আজ রোববার ভোর পৌনে ৪টার দিকে নৌরুটের শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে টার্নিং পয়েন্টে বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়া কামাল ফেরির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দূর্ঘটনায় বেগম সুফিয়া কামাল ফেরিতে থাকা গাড়িতে চাপা পরে নিহত হয় খোকন শিকদার নামের এক গাড়ি চালক। আর বেগম রোকেয়া ফেরিতে থাকা শামীম হোসেন মোল্লা নামে একজন গাড়ি চালক নিখোঁজ রয়েছেন।

 

শরীয়তপুরের সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝি ঘাটে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা দিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে যানযটের।

 

নিহত খোকন ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া চিংবাখালি এলাকার হারুন শিকদারের ছেলে। তিনি একজন পিকাপভ্যান চালক ছিলেন। এদিকে

নিখোঁজ শামীম ঢাকা লালবাগের ২৩নং কাজী ইয়াজউদ্দিন রোড এলাকার কাশেম আলী মোল্লার ছেলে। তিনিও পিকাপভ্যান চালক।

 

ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন বিআইডাব্লিউটিসি শিমুলিয়াঘাটের ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মো : জামাল হোসেন ও বিআইডব্লিউটিএ সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝি ঘাটের শুল্ক আদায়কারী তৌফিকুল ইসলাম।

 

বিআইডাব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায় জানান, ফেরি বেগম সুফিয়া কামাল ৩০টি যানবাহন নিয়ে শরীয়তপুরের সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝি ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে যাচ্ছিল, একই নৌপথে ৩৪টি যানবাহন ও অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝি ঘাটে অভিমুখে আসছিল ফেরি বেগম রোকেয়া। দুটি ফেরি পদ্মা নদীর টার্নিং পয়েন্ট জাজিরা প্রান্তে পৌছালে এসংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুটি ফেরি সামনের অংশ। বিকল হয়ে যায় বেগম রোকেয়া ফেরি গাড়ি উঠানামার রেম্প। এসময় ফেরি সুফিয়া কামাল ফেরিতে থাকা এতটি গাড়িতে চাঁপা পড়ে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ রয়েছেন একজন। আহত হয় অন্তত ১০ জন। এতে ফেরিতে থাকা ১০/১২টি গাড়ির ক্ষতি হয়। সকাল ১০টায় বেগম সুফিয়া কামাল গাড়ি ও যাত্রী নিয়ে সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝির ঘাট থেকে শিমলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। আর বেগম রোকেয়া সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝি ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে। নিখোঁজ উদ্ধারে কাজ করছে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

 

বেগম রোকেয়া ফেরিতে থাকা প্রাইভেটকার চালক মো. রায়হান বলেন, আমি ঢাকা থেকে ফেরিতে মাদারীপুর যাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকারের শব্দ পাই। পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখি বেগম সুফিয়া কামাল ফেরিটি আমাদের ফেরির পিছনে ধাকা দেয়। এতে দুইটি ফেরির র ্যাম্পের ক্ষতি হয়। আমার প্রাইভেটকারের সামনে ও পিছনে ভেঙে গেছে। আমার গাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমিও আহত হয়েছি।

 

নিখোঁজ পিকাপভ্যান চালক শামিম হোসেন মোল্লার গাড়ির মালিক মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, দুই ফেরির সংঘর্ষর সময় আমার গাড়ি চালক নদীতে পরে যায়। শামীম এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

 

বেগম সুফিয়া কামাল ফেরির মাস্টার মোহাম্মদ হাসান বলেন, নদীতে প্রচণ্ড স্রোতে টার্নিংয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তাই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

 

মাওয়া নৌপুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ আবু তাহের জানান, ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত ব্যাক্তির মরদেহ মাওয়া নৌপুলিশ ক্যাম্পে রয়েছে। আইনী পক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।