ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গৌরবময় স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এক মাস আজ! টোল আদায় ৭৬ কোটি

  • 6Words
  • Views
শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সহ দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের কল্পনাতীত আজকের এই পদ্মা সেতু। আজ সোমবার (২৫ জুলাই) একমাস অতিক্রম করলো গৌরবময় স্বপ্নের সেই পদ্মা সেতু। গত ২৫ জুন গৌরবের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৬ জুন খুলে দেয়া হয় মান চলাচলের জন্য।
সেতু চালু হওয়ার পর গত ২৬ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ২৮ দিনে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ৪২০টি যানবাহন সেতু পাড়ি দিয়েছে। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৭৬ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ১০০ টাকা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে নিয়মিত টোল আদায় করা হয়।
পদ্মা সেতু ব্যবহার করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় বিভিন্ন পরিবহন যাতায়াত করেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর শরীয়তপুরের পরিবহন খাতও ঘুরে দাড়াতে শুরু করেছে।
নতুন উদ্যোক্তা শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস প্রাইভেট কোম্পানির অংশীদার সাইম মোল্লা বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর শরীয়তপুরের পরিবহন খাতে অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা সরাসরি শরীয়তপুর-ঢাকা বাস সার্ভিস চালু করেছি। এতে আমরা বাস মালিকরা যেমন লাভবান হচ্ছি, তেমনিভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক মানুষের। তাছাড়া শরীয়তপুর থেকে দেড় থেকে দুই ঘন্টায় যাত্রী নিয়ে ঢাকাতে যেতে পাচ্ছি।
সেতুটি চালু হওয়ায় পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনের ফলে অর্থনৈতিক ঘুরে দাড়াতে শুরু করেছে। শরীয়তপুরে গড়ে উঠতে শুরু করেছে পর্যটন শিল্প, আধুনিক ক্লিনিক, হিমাগার।  আবার কৃষকদের কৃষিপণ্য সহজেই রাজধানীসহ সারা দেশে চলে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু কৃষককে সরাসরি বাজারের সম্পৃক্ত করেছে।
জাজিরা মিরাশার এলাকার কৃষক সিরাজ ফকির
জানান, এক যুগ আগ থেকে তিনি দুই ফসলি জমিতে সবজি চাষ করেন। কিন্ত ঢাকাতে সরসরি সবজি বিক্রি না করতে পারায় সবজি বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেননি। এখন সময় পাল্টেছে। বদলেছে এই কৃষকের ভাগ্য। করল্লা, কাঁচা মরিচ, সশা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, মিষ্টি কুমড়া, পটলসহ হরেক সবজির চাষ হচ্ছে। খেত থেকে সবজি তুলে ঢাকার কাওরানবাজার মোকামে বিক্রি করছেন কৃষক সিরাজ।
তিনি সাতসকালে কাওরানবাজার হাটে যে সবজি বিক্রি করছেন। এতে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি। শুধু শরীয়তপুরের কৃষক সিরাজ একার দুর্ভোগের অবসান হয়নি। কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে পদ্মা সেতু। সেতু চালুর পর বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে দেশজুড়ে।
জাজিরা মিরাশার চাষী বাজারের আড়ৎদার মো. মাসুদ টেপা বলেন, আমরা এই অঞ্চলের কৃষকদের কাছে থেকে সরাসরি  সবজি কিনে ব্যবসা করে থাকি। আগে সরাসরি ঢাকায় সবজি বিক্রি করা অনেকটা কষ্ট ছিল। ফেরিঘাটে সময় বেশি লাগতো ও খরচ বেশি হতো। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ট্রাক ও পিকাপে সরাসরি ঢাকায় সবজি বিক্রি করতে পারছি। এতে আমরা আড়ৎদাররা লাভবান হচ্ছি। তাজা সবজি সরবরাহ করতে পারায় আমরা দামও পাচ্ছি আগের চেয়ে বেশি। ফলে কৃষি হয়ে উঠছে আগের চেয়ে লাভজনক।
জাজিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জামাল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় কৃষি ভিত্তিক যে শিল্প রয়েছে এখানে বড় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তনটা হতে পারে তিনদিক থেকে। এক- বর্তমান যে ফসল রয়েছে দ্রুত তারা ঢাকার বাজার ধরতে পারচে। এখানের বাজারে কৃষকরা যে সবজি ২০টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় তা ঢাকার বাজারে উচ্চ দামে ৩০ থেকে ৪০টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন।
দুই- এখানে কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠবে ও উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। এখানে ধনিয়া, কালিজিরা, মধু, পেঁয়াজ ও রসুসহ অন্যান্য মশলা ফসল হয়ে থাকে। মশলা ফসল প্রসেসিং করে পাউডার আকারে প্যাকেটজাত করে বিক্রি একটা সুযোগ রয়েছে। তিন- বর্তমানে এখানে যে শস্য বিন্যাস রয়েছে তাতে নতুন উচ্চ মূল্যের ফসল চাষের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। বর্তমান যেই সবজি রয়েছে তা ৪ থেকে ৫জন কৃষক মিলে পিকআপ বা ট্রাকে ভাড়া করে পদ্মা সেতু দিয়ে দেড় দুই ঘন্টায় ঢাকার বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারচ্ছেন। এতে লাববান হচ্ছে কৃষকরা।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় শরীয়তপুরে অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অনেকগুলো বৃহৎ শিল্প এখানে আসার অপেক্ষায় আছে। নদীবেষ্টিত এলাকা হিসেবে আমরা পর্যটনশিল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি। সেতু উদ্বোধনের পর অনেক ধরনের উন্নয়ন আমরা দেখছি। শরীয়তপুর কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় এরই মধ্যে কৃষি সেক্টরে অনেকে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন। আমরা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করছি।