ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

থানায় নষ্ট হচ্ছে জব্দকৃত কোটি কোটি টাকার যানবাহন

  • 7Words
  • Views

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধিঃ রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে নরসিংদীর পলাশ থানায় জব্দকৃত কোটি কোটি টাকার যানবাহন। নানা জটিলতা আর বেশির ভাগ মালিক না পাওয়ায় ওইসব যানবাহন দিনের পর দিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে দামি দামি নতুন পুরাতন বিভিন্ন মডেলের প্রাইভেট কার ও মটরসাইকেল সহ অনেক গাড়ি।

সড়ক দুর্ঘটনা, চোরাই পণ্য, মাদকদ্রব্য বহনসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকাপ, প্রাইভেটকার, সিএনজি,ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ইত্যাদি যানবাহন জব্দ করে। আর জব্দ করার পর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব যানবাহন অযত্নে থানা চত্বরে পড়ে থাকে। একপর্যায়ে সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে মালিকের না আসা, আদালতের নির্দেশনা ছাড়া ওইসব যানবাহন নিলামে বিক্রি করতে না পারা ও থানা কর্তৃপক্ষও জব্দকৃত যানবাহন সম্পর্কে সঠিক সময়ে আদালতকে কিছু অবগত না করার কারণেই মূলত থানায় জব্দকৃত যানবাহন নষ্ট হচ্ছে।

পলাশ থানা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অভিযোগে জব্দ করা যানবাহন থানা চত্বরের একাংশ দখল করে রেখেছে। জব্দ করা এসব গাড়ি রাখার কোনো ছাউনি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। আর ওইসব যানবাহনের মালিক না আসায় যানবাহনগুলো বছরের পর বছর থানা চত্বরে পড়ে থাকলেও আইনি জটিলতায় বিক্রিও করা যায় না। মামলার আলামত হিসেবে এগুলো রাখতে হচ্ছে। থানা চত্বরে অযত্নে খোলা জায়গায় পড়ে থাকা এসব যানবাহনের বেশির ভাগই চেনারও কোনো উপায় নেই। তবে থানা কর্তৃপক্ষের ধারণা, ওইসব যানবাহনের দাম প্রায় কোটি টাকা । আদালতের নির্দেশনা না পাওয়ায় এসব যানবাহন নিলামে বিক্রিও করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক যানবাহনই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। কিছু যানবাহনের যন্ত্রাংশ খুলে পড়ছে, আবার কিছু যন্ত্রাংশ চুরিও হয়ে যাচ্ছে।

 

তবে কোনো দুর্ঘটনার পর মালিক যদি গাড়ি ফিরে পেতে চায়, তবে আদালতে আবেদন করার পর আদালত থানা পুলিশকে মালিকানার তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বললে থানা পুলিশ দ্রুত প্রতিবেদন দিয়ে জব্দ করা গাড়ি মালিককে ফেরত দিতে খুবই আন্তরিক হয়ে কাজ করেন বলে দাবি থানা কর্তৃপক্ষের। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যানবাহনের মালিক আদালতে আবেদন না করার কারণেই দিনের পর দিন এসব যানবাহন থানায় পড়ে থেকে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে আরও জানা যায়, থানা এলাকায় জব্দ করা গাড়ি রাখার জায়গা না থাকলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতকে অবহিত করলে সেগুলো নিলামে বিক্রি কিংবা ধ্বংস করার নির্দেশনা দিতে পারেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই থানা কর্তৃপক্ষ সেটি করে না।

 

জানতে চাইলে জব্দ করা যানবাহনের হিসাব রক্ষক পলাশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুল হক বলেন, জব্দ করা যানবাহনের বেশির ভাগের বৈধ কাগজপত্র নেই অথবা চোরাই। মামলার আলামত হিসেবে যানবাহনগুলো বছরের পর বছর থানা চত্বরে পড়ে থাকছে। আর কাগজপত্র না থাকলে কিংবা আদালতে মামলা থাকলে নিষ্পত্তির জটিলতায় বেশির ভাগ মালিক যোগাযোগ করছে না। ফলে আদালতের নির্দেশনা না আসায় জব্দকৃত যানবাহন মালিককে ফেরত দেওয়া যায় না। তাছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে যেসব গাড়ি থানায় পড়ে আছে, যেগুলোর সঠিক মালিকানা পাওয়া যায় না। ওইসব গাড়ি গুলো নিলামে বিক্রি করার জন্য আদালতে চাহিদাপত্র পাঠানোর পরও আদালত ওইসব গাড়ি নিলাম সঠিক সময়ে না দেওয়ার কারণেই থানায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, থানায় পড়ে থাকা গাড়িগুলো মামলার আলামত। আদালতের নির্দেশে এসব গাড়ির নিষ্পত্তি করা হয়। এর বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। যেসব গাড়ির মালিক পাওয়া যায় না,সেগুলোর নিলাম হলে বিক্রি করা যায়। তবে পলাশ থানায় পড়ে থাকা অধিকাংশ গাড়িই চোরাই পণ্য ও মাদকদ্রব্য বহনকালে জব্দকৃত। ফলে এসব গাড়ি ফিরে পেতে মালিকপক্ষের কোনো যোগাযোগও নেই।