ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মানিকছড়ির পিংকি হাঁস চাষে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন

  • 10Words
  • Views

এম জামান রাজ ,স্টাফ রিপোর্টার ,খাগড়াছড়ি :  বেঁচে থাকার সংগ্রামে মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখে। কারো স্বপ্ন পুরন হয় কারো হয় না। তবুও মানুষ চেষ্টা করে যায়। তেমনি অপ্রতিরোধ্য মা-বাবা হারানো এক সংগ্রামী নারী পিংকী রানী নাথ ।

পরিবারে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছোট ২ বোন, ১ ভাই নিয়ে পরিবারে আর্থিক খরচ ও পড়ালেখার অভাব মোচনে কোন কূল কিনারা না পেয়ে স্বল্প পুঁজিতে কিছু একটা করে অন্তত ছোট ভাই-বোনের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ভাবছিলেন প্রয়াত সাধন চন্দ্র নাথ ও লক্ষ্মী রানী নাথের বড় কন্য মাস্টার্স পড়ুয়া পিংকী রানী নাথ।

ছোট ভাইবোনের পড়ালেখা ও ভরণ পোষণে মা-বাবার আদলে দেখবাল করছেন বড় বোন পিংকী রানী নাথ। সে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে বাংলায় অর্নাস শেষে এখন মাস্টার্স করছেন। অন্যদিক ভাই(মেঝ) সাগর চন্দ্র নাথ এ বছর বি. কম এ ভর্তির অপেক্ষায় । ছোট বোন টিংকী রানী নাথ মানিকছড়ি সরকারী ডিগ্রী কলেজে ইন্টার মিডিয়েটে লেখাপড়া করে। । সংসারে ৩জনের পড়ালেখা খরচ ও ভরণপোষণে মামা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র নাথের সহযোগিতা করলেও নিজ পায়ে দাঁড়ানো ও ছোট ভাই, বোনকে স্বাবলম্বি করার স্বপ্ন বুনছেন। তাই নিজের সাধ্য অনুযায়ী চলতি বছর কুমিল্লা থেকে দেশী জাতের ৪৫০ টি হাঁস কিনে উপজেলার ছদুরখীল নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। গত দুইমাসে সফলতাও এসছে।

বাবা-মা মারা যাওয়ায় ১ বছর অভাব অনটনে কেটে গেলেও এখন অনেকটা সাফল্যের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে অনাথ পিংকি, সাগর ও টিংকি।

মানিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমে ছদুরখীল হিন্দু পাড়ার খোলা পরিবেশে জলাশয়ে হাঁস পালনে এখন মনোযোগি এই তরুণী উদ্যোক্তা পিংকি রাণী নাথ।

পিংকি জানান, একজন সফল খামারির পরামর্শ নিয়ে ৪৫০টি হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করেন গত জুন মাসে। বিভিন্ন রোগে শত খানেক হাঁস মারা যায়। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ না থাকায় বিশাল ক্ষতি হয়েছে। সরকারীভাবে প্রশিক্ষিত হতে পারলে হাঁস পালন লাভবান প্রকল্প। বর্তমানে সাড়ে ৩০০ হাঁস আগামী ২-৩ মাস পর ডিম দিবে। বাড়ির পাশেই জলাশয় থাকার কারণে বাড়তি খাবার দিতে হয়নি। তারপরও দৈনিক কমপক্ষে ১২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আর্থিক ভাবে যে কেউ সহযোগিতা না করতে পারলেও হাঁসের চিকিৎসা, টিকা ও পরামর্শে সহযোগিতা পেলে সচ্ছলভাবে লালন পালনে তার আর্থিক ব্যয় কমে আসতো।

 

পিংকি আরও জানায়, বৈশ্বিক মহামারী করোনায় ২০২১ সালের ১০ জুলাই মা এবং একই বছর ১০ নভেম্বর জ্বরে বাবা মারা যায়। এর পর মামার কৃপায় আমরা ৩ ভাই-বোন বেঁচে আছি। সম্প্রতি আমার বিয়ে হয়েছে। স্বামীর বাড়ি যাওয়ার আগে ছোট ভাই-বোনকে একটু স্বস্তিদায়ক করতে হাঁস পালনে এখন পুরো মনযোগ দিয়েছি। যদিও ছোট ভাই এখনো এসবে মনোযোগী হয়ে উঠেনি। দেখি তাদের জন্য খামারটিকে দাঁড় করিয়ে যেতে পারি কী না। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক যুবতী এখন হাঁস পালন উৎসাহ দেখিয়েছে।

 

এ প্রসংঙ্গে  উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা  ডাক্তার সুচয়ন চৌধুরী  বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই । তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো। তার খামারে  প্রয়োজনীয় সেবা ও প্রশিক্ষনে সহযোগীতা করবো।