ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হতাশায় ভুগছে সেই ৯ পরীক্ষার্থী, আতঙ্কে অভিভাবকরা

  • 7Words
  • Views

এসএসসি পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের মাথায় বহিষ্কার হওয়া সেই ৯ পরীক্ষার্থী হতাশায় ভুগছে। হতাশায় লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে তারা আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে অভিভাবকদের।

 

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এসএসসি পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রহমান পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপস্থিত হন। পরীক্ষা শুরু হলে তিনি কক্ষ পরিদর্শন শুরু করেন। বিভিন্ন অভিযোগে ৯ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন। ৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন খাতায় রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কিছুই লেখেনি। বাকি দুজনের একজনে দুটি উত্তর এবং অপরজন তিনটি উত্তরের বৃত্ত ভরাট করেছিল। এ ঘটনার পর থেকে এলাকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এদিকে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, মো. রোকনুজ্জামান ও নাইম সরদার ৯ পরীক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সুমাইয়ার বাবা শাহাবুদ্দিন হাওলাদার বলেন, পরীক্ষার প্রথম দিনের বহিষ্কারের পর থেকে আমার মেয়ের গায়ে জ্বর। ও কোনো কথা বলে না। খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ইমার বাবা চুন্নু হাওলাদার বলেন, আমার মেয়ে এই বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার হওয়ার পর থেকে ও বারবার বলতেছে- ‘সুইসাইড করব’। সেদিনের পর থেকে পাহারা দিয়ে রাখতে হচ্ছে।

 

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী লিয়া আক্তারের বাবা লতিফ মৃধা বলেন, আমার মেয়েকে এখন সঙ্গে সঙ্গে রাখি। ও বারবার বলে- ‘আমার মরে যেতে ইচ্ছা করে।’ আমি এই মেয়েকে রেখে কোথাও যেতে পারছি না। আমার এখন কী উপায় আছে।

পরীক্ষার্থী লিয়া আক্তার বলে, পরীক্ষার খাতায় রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কিছুই লিখতে পারিনি। ম্যাজিস্ট্রেট স্যারকে অনেক অনুরোধ করেছিলাম পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের কথা তিনি শোনেননি। কত কষ্ট করে বাবা-মা পড়াশোনা করান। একটি বছর আমার জীবন থেকে শেষ হয়ে গেল। আমার মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।

পরীক্ষার্থী শোয়েব সরদার বলে, কয়দিন পর আমার বন্ধুরা সবাই কলেজে পড়াশোনা করবে। সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। বাড়িতে মানুষজন আমাকে দেখতে আসে, আমি কী অপরাধ করেছি এই জন্য। আমার জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট করে দিল।

পরীক্ষার্থী ইমা বলে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রথমেই আমি যখন বহুনির্বাচনীর উত্তর পূরণ করছিলাম, তখন আমার‌ কলম নিচে পড়ে যায়। আমি কলম উঠাতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট স্যার এসে আমাকে বলেন-‘তোমার খাতা দিয়ে দাও, তোমাকে পরীক্ষা দিতে হবে না।’ অনেক অনুরোধ করার পরও স্যার আমাদের কথা শুনলেন না।

 

পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাফর আহমেদ বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। পাঁচ মিনিটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা এমন কী ভুল করেছে যার জন্য এক বছর তাদেরকে বহিষ্কার করতে হবে। শিক্ষার্থীরা সব সময় সুযোগ নিতে চাইবে। যদি শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন বদল করে থাকে, তাহলে তখন হল পরিদর্শক কী করেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের যে পরিদর্শক ছিলেন তাকেও বহিষ্কার করা উচিত ছিল।

এ বিষয়ে পরীক্ষার হল সুপার ও খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান মনি বহিষ্কারের দিন  বক্তব্য দিলেও এখন তিনি ফোন রিসিভ করছেন না।

ঘটনার দিন খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান মনি বলেছিলেন, আমাদের কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের মধ্যেই ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়। তবে ৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজনে এমসিকিউ উত্তরের উত্তরপত্রের ঘর দুটি পূরণ করেছে। অপরজন তিনটি উত্তর ভরাট করেছে। বাকি সাতজন শুধু রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ঘর পূরণ করেছে। আমি স্যারকে (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু স্যার আমার কথা রাখেননি, তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বহিষ্কারাদেশ লিখেছেন।

সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রহমান বলেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা নিজেরা নিজেরা দেখাদেখি ও প্রশ্ন এক্সচেঞ্জ করেছিল, এজন্য তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।