ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দৃষ্টিহীন বাবা! বই আলমারিতে তুলে সংসারের হাল ধরেছে শিশু আব্দুর রহমান 

  • 8Words
  • Views

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : বাবা দৃষ্টিহীন হওয়ার কারণে অসহায় হয়ে পড়ে তাদের পরিবার। তিন বছর আগে চোখে ছানি পরে আস্তে আস্তে দৃষ্টিশক্তি হারান সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী আব্দুর রহমানের বাবা। তাই অভাবের সংসারে আব্দুর রহমান স্কুলের বই আলমারিতে রেখে, ধরেছে ভ্যান গাড়ির হ্যান্ডেল।

অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে বাবার দেখানো সেই পথে এবার পা বাড়িয়েছে শিশু আব্দুর রহমান। পাঁচ সদস্যের সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী এই শিশুটি।

 

আব্দুর রহমান বর্তমানে ভ্যানে করে ভ্রাম্যমান চা, পানি ও চকলেট বিক্রতা। সারাদিন বিক্রি করলে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করে। আর এ টাকা দিয়েই কোনো রকমে চলছে তাদের সংসার।

 

আব্দুর রহমান (১৩) শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের নাওডোবা গ্রামের সিরাজ মুন্সীর ছেলে। তারা দুই বোন এক ভাই।

 

এলাকাবাসী জানায়, অন্য দশটি পরিবারের মত

ভ্যান গাড়ি চালিয়ে যাত্রী বহন করে ভালোভাবেই সংসার চালিয়েছেন নাওডোবার সিরাজ মুন্সী। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে হঠাৎ তাঁর চোখে ছানি পরে। কিন্ত চিকিৎসা না করার কারণে আস্তে আস্তে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তখন সিরাজের একমাত্র ছেলে আব্দুর রহমানের এগারো বছর। তখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমান। বাবার দৃষ্টিশক্তি হরানোর পর পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়ে। এমন সময় আব্দুর রহমান পড়াশোনা বন্ধ করে ধরেন সংসারের হাল। ছয়মাস ভ্যানগাড়ি দিয়ে যাত্রী বহন করেছে। যাত্রী বহন করতে বেশি কষ্ট তাই এখন ভ্যানে করে ভ্রাম্যমান চা, পানি ও চকলেট বিক্রি করে।

 

আব্দুর রহমান বলে, স্কুলে গিয়া কি করমু। হামারতো পেটেত ভাত নাই। মা, বাবা, বোন সাদিয়া (২০) ও সুমাইয়াকে (৬) নিয়ে কি খাইমু। এজন্যইতো ভ্যানে মাল বিক্রি করি। যা টাহা পাই তাতে সংসার চলে না। কষ্ট আর কষ্ট।

 

আব্দুর রহমান আরও বলে, আমাদের নিজস্ব কোন বাড়ি বা জমি নাই। সরকার জাজিরা নাওডোবা পদ্মা সেতু প্রজেক্টে অল্প জমি দিছে সেখানে সবাই থাকি। আমার বাবার চিকিৎসা দরকার। চেয়ারম্যান বলছে চিকিৎসা করাবে, কিন্তু করায়নি।

 

আব্দুর রহমানের মা নাজমা বেগম জানান, তাঁর স্বামী দুচোখে দেখতে পাননা। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। তাই একমাত্র ছেলে তাদের সংসারের হাল ধরেছে। তাঁর ইচ্ছা ছিল একমাত্র ছেলেকে পড়াশোনা করাবে। কিন্তু নির্মম পরিহাস শিশু ছেলে হাতে বই না ধরে, সংসারের হাল ধরেছে।

 

নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, আমি পরিবারটির খোঁজ নেব। অসহায় পরিবারটির কেউ পরিষদে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে আসলে সহযোগিতা করবো। আমি ওই পরিবারের পাশে থাকবো।

 

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহেল বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে আমরা পরিবারটির খোঁজ নেব। পরিবারটি অসহায় হলে দৃষ্টি হারানো সিরাজকে চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।