ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রেমের টানে শরীয়তপুরে সপরিবারে তাইওয়ানের তরুণী, করলেন বিয়ে!

  • 11Words
  • Views

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : প্রেম মানে না কোনো ধর্ম, বর্ণ বা দেশ। সে কথা আবারও প্রমাণিত হলো। বাংলাদেশি যুবকের প্রেমের টানে নিজ দেশ তাইওয়ান ছেড়ে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় চলে এসেছেন এক যুবতী লিইউ হুই (৩১)। আজ তাদের বিয়ে হয়েছে। গতকাল ছিল গায়ে হলুদ।

বাংলাদেশি এই যুবক হলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রমজান ছৈয়াল (৩৪)।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে বাঙালি যুবক রমজানের সঙ্গে ওই যুবতীর বিয়ে হয়। তাই অন থেকে আসা ওই তরুণী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। নাম পাল্টে রাখা হয় নিনা ছৈয়াল।

 

রমজান নড়িয়া পৌরসভার ৮নম্বর পশ্চিম লোনশিং গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিন ছৈয়ালের ছেলে। আজ তাঁর নিজ বাড়িতে মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে হয়। ‘নিনা’ তাঁর মা-বাবা ও ভাইকে নিয়ে তাইওয়ান থেকে গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে আসেন। ওইদিনই ঢাকা আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। ২২ নভেম্বর তারা শরীয়তপুরে রমজানের বাড়িতে আসেন।

 

রনজান জানান, মাধ্যমিক পাস রমজান প্রায় ছয় বছর আগে মালদ্বীপ যান। সেখানে তিনি এবং ওই যুবতী একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। একপর্যায়ে ২০১৮ সালে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্ব হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই বছর আগে রমজান বাংলাদেশে চলে আসে ও নিনা তাইয়ান চলে যায়। তবে তাঁদের মধ্যে ফোন ও ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ সচল থাকে। ফের দুবাইতে নিনার চাকরি হয়। সেই সুবাদে নিনার টানে রমজানও দুবাই চলে যায়। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় যুবতী বাংলাদেশে আসেন।

 

এদিকে এলাকার লোকজন বুধবার সকাল থেকে নববধূকে দেখার জন্য তাঁদের বাড়িতে ভিড় করছে। বিদেশি ওই রমণীর সঙ্গে কেউ ছবি তুলছেন। কেউবা আবার সেলফি।

 

নববধূ নিনা ছৈয়াল ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলেন, আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। রমজানকেও ভালোবাসি, তার সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় আমি আনন্দিত।

 

রনজান জানান, মাধ্যমিক পাস রমজান প্রায় ছয় বছর আগে মালদ্বীপ যান। সেখানে তিনি এবং ওই যুবতী সঙ্গে একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। ২০১৮ সালে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্ব হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই বছর আগে রমজান বাংলাদেশে চলে আসে ও নিনা তাইয়ান চলে যায়। তবে তাঁদের মধ্যে ফোন ও ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ সচল থাকে। ফের দুবাইতে নিনার চাকরি হয়। সেই সুবাদে নিনার টানে রমজানও দুবাই চলে যায়। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় যুবতী বাংলাদেশে আসেন।

 

রমজানের ভাতিজি নিশি আক্তার বলেন, আমরা আনন্দিত। কাকা-কাকির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। ভাষাগত কিছু সমস্যা থাকলেও সবকিছুতেই মানিয়ে নিচ্ছেন। কাকি পরেছেন বাঙালি পোশাকও। আজ তাদের বিয়ে ছিল, গতকাল রাতে ছিল গায়ে হলুদ। এলাকার লোকজন বুধবার সকাল থেকে নববধূকে দেখার জন্য তাঁদের বাড়িতে ভিড় করছে।

 

নড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র শহীদুল ইসলাম বাবু রাড়ী বলেন, প্রেমের টানে তাইওয়ান থেকে আমাদের এলাকায় এক যুবতী তার মা-বাবা ও ভাইকে নিয়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমাদের আতিথিয়েতায় তারা মুগ্ধ। এই দম্পত্তি যেন সুখি হয় তাদের জন্য দোয়া করি।