ঢাকা, বুধবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

  • 5Words
  • Views

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর প্রায় ৩৩ শতাংশ রোগীর চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে অনেক রোগীর দৃষ্টিশক্তি কমে আসে এবং এক পর্যায়ে স্থায়ী অন্ধত্বের দিকে অগ্রসর হয়। 

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা (ডিএমই) রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এছাড়া বাড়ছে বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (এএমডি) রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। এর ফলে রোগী, পরিবার এবং সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এই রোগের চিকিৎসা দেশে সীমিত পর্যায়ে চালু থাকলেও সহজলভ্য নয়। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসায় স্থায়ী অন্ধত্ব এড়ানো সম্ভব। সুইস বায়োটেক প্রতিষ্ঠান ‘রোশ’ সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ নতুন আবিষ্কার এই রোগের রোগীদের চিকিৎসাসেবাকে সহজ করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে নতুন এই আবিষ্কার এবং ডিএমই আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে বাংলাদেশ ভিট্রিও-রেটিনা সোসাইটি এবং রোশ বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অর্ধ-শতাধিক খ্যাতনামা চক্ষুবিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে অংশ নেন।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ফ্লোরিডার স্ট্যাফ ফিজিসিয়ান অধ্যাপক ডা. রিশি পল সিং। তিনি ডিএমই এবং এএমডি আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি, নতুন আবিষ্কৃত ওষুধ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য উপস্থাপন করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ভিট্রিও-রেটিনা সোসাইটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ আই হসপিটালের কনসালট্যান্ট ভিট্রিও রেটিনা সার্জন ডা. নিয়াজ আবদুর রহমান বাংলাদেশে ডিএমই ও এএমডি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

ডা. নিয়াজ আবদরু রহমান বলেন, আমাদের কাছে আসা রোগীদের মধ্যে ডিএমই এবং এএমডি আক্রান্ত রোগীর ক্রমেই সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগীদের স্থায়ী অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তবে এর চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হলে সবার একসঙ্গে কাজ করতে হবে, বিশেষ করে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ভিট্রিও-রেটিনা সোসাইটি এবং অফথামোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. তারিক রেজা আলী, সহযোগী অধ্যাপক, চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগ, বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি তার স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে ডিএমই আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে ভিট্রিও-রেটিনা সোসাইটির উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।

সমাপনী বক্তব্যে রোশ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আফরোজ জলিল বলেন, বাংলাদেশে অন্ধত্বের হার কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অবদান অনস্বীকার্য। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে, তাই ডিএমইর ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিরোধ এবং যথাযথ স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।