ঢাকা, বুধবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হতাশা থেকে বিএনপি নেতারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন : ওবায়দুল কাদের

  • 2Words
  • Views

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি বলছে সুনামি এনে সরকার হটাবে। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনে বিএনপি অসুস্থ হয়ে গেছে। হতাশা থেকে অসুস্থতা শুরু হয়েছে বিএনপির।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস (১০ জানুয়ারি) উপলক্ষে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বিএনপির আসল নেতাগুলো হাসপাতালে আর পাতিনেতারা বলছে সুনামি নামিয়ে সরকার হটাবে। অথচ আন্দোলনের সাগরের উত্তাল তুলে নদীর ঢেউও তুলতে পারলো না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব অসুস্থ, মির্জা আব্বাস অসুস্থ, মার্কিন সরকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাবার্তা শুনে তারা বিষবর্ণ। আসলে কি অসুস্থ? নাকি রাজনৈতিক অসুস্থ? তারপর শুনি মান্নান সাহেব হাসপাতালে, আ স ম রব ভাইও হাসপাতালে, হাসপাতালে কি হতাশা থেকে অসুস্থ হয়ে গেছেন?

বিএনপির জন্য আরো খারাপ খবর আছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ৫৪ দল, ৫৪ মত, ৫৪ পথ। ফখরুল নেই, মির্জা আব্বাস হাসপাতালে এখনো পাতি নেতারা কথা বলছে। এক পাতি নেতা বলেছে, সরকার হটাবেন আন্দোলনের সুনামী দিয়ে। হাতি ঘোড়া গেল তল, ভেড়া বলে কত জল। আন্দোলন করলেন ১৫ বছর ধরে, আন্দোলনে নদীর ঢেউ পেলাম না। সাগরের উত্তাল তরঙ্গ তো দেখিনি। যারা ঢেউ বানাতে পারেনি রাজপথে, এখন সেই আন্দোলনেও মানবিকতা চেয়ে কতদিন টিকবে বলা মুশকিল। আন্দোলনের ঘরে এখন আবার হতাশা নেমে এসেছে।

বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সব কিছু ছেড়ে দিয়ে সরকারের পরিবর্তন যদি চান নির্বাচনে আসুন। আমরা যারা সরকারে আছি, এই সরকার হবে রুটিন সরকার। এই সরকার নির্বাচনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে না। হোম মিনিস্টারের যে কাজ সেই কাজ তখন নির্বাচন কমিশন করবে। পুলিশের লোকজনকে ট্রান্সফার, প্রমোশন দেওয়া, এসব কাজ তখন হোম মিনিস্টার করবে না, করবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি আরও বলেন, হতাশায় বিএনপি’র বাজার ভেঙে যাচ্ছে, বিএনপি’র জোটের বাজার ভেঙে যাচ্ছে, এ হতাশার জোট দিয়ে শেখ হাসিনা সরকার হটানো দূরাশার বাণী।

কাদের বলেন, মুখে বলি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, নেতা হয়ে মঞ্চে উঠলে আদর্শের কথা মনে থাকে না। নেতাদের ভীড়ে আসল কর্মী চেনা দায়। স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট কর্মীবাহিনী দরকার। বাংলাদেশের জন্য সুশৃঙ্খল আওয়ামী লীগ চাই।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে হবে। যারা চাঁদাবাজিতে মাস্তানি করবে তাদের সাথে কোনো আপস নয়, তাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চলবে। মুখে আওয়ামী লীগের আদর্শ লালন করবেন অন্তরে সে আদর্শ লালন করবেন না তেমন নেতার দরকার নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে আসুন। সরকার নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাবে না নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশনার।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোথাও নেই, অহেতুক তত্ত্বাবধায়কের কথা ভুলে যান, আইন দ্বারা গঠিত নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ প্রশ্নই আসে না। অস্বাভাবিক আবদার পরিবর্তনে সাপোর্ট না দেওয়ার কারণেই নির্বাচন কমিশন চায় না বিএনপি।

তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলনের টাকা আসে কোথা থেকে সেটা আমরা জানি, যারা শেখ হাসিনা সরকারকে হটানোর জন্য টাকা দিচ্ছে তাদের খবর আছে।

এসময় দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাবে কে? ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার শক্তি বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাতের অন্ধকারে নিমজ্জিত। রাতের অন্ধকারে তারা খুঁজে পায় অন্তর জ্বালা। অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিড়ে শিগগিরই চালু হচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্টো রেল। এসব মেগা প্রজেক্টের ভিড়ে বিএনপির অন্তর জ্বালা। এ বছরের সেপ্টেম্বরের আগে গাজীপুর থেকে রেপিড বাস চালু করা হবে। এ বছরেই উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল বাস্তবায়ন হবে।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ও আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন প্রমুখ।

আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন।