ঢাকা, বুধবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, বুধবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘কিছুদিন পর পর কীসের ধর্মঘট হয় বুঝি না, কাজ করে খাব তাও পারি না’

  • 4Words
  • Views

১০ দফা দাবিতে নাটোরসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এ ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প বাহনে গন্তব্যে যাতায়াত করছেন অনেকে। 

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে এ পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে প্রাইভেটকার, সিএনজি ও অটোরিকশা চলছে।

নাটোরের হরিশপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস চলাচল বন্ধ দেখে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। স্বল্প দূরত্বের যানবাহনে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন অনেকে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের। শ্রমিকরা এখানে-ওখানে বসে গল্প-আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তবে ধর্মঘটের ব্যাপারে আগে থেকেই সাধারণ মানুষ জানেন বলে টার্মিনালে যাত্রীদের কোনো চাপ দেখা যায়নি।

তবে যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ভাড়ার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের।

শহরের হরিশপুর বাইপাসে আসা যাত্রী হাসি বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে খুব অসুস্থ, তাকে দেখতে বনপাড়া যেতে হবে। ভোরে ইয়াছিনপুর থেকে বের হয়ে আসি। এখানে এসে শুনলাম বাস নাকি বন্ধ। কোনো সিএনজি বাস কিছুই চলছে না। এখন কীভাবে মেয়েকে দেখতে যাবো সেই চিন্তায় বসে আছি।’

ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাসট্যান্ডে আসা সাঈদ হোসেন নামে এক প্রবাসী জানান, শুক্রবার তার সৌদিতে যাওয়ার ফ্লাইট। বাস বন্ধ থাকায় তিনি যেতে পারছেন না। নাটোর থেকে ঢাকায় যেতে তার ৫৯০ টাকা দিতে হতো। এখন বিকল্প বাহনে যেতে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা খরচ পড়বে তার।

আসাদ নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক জানান, তারা এলপি গ্যাস দিয়ে অটোরিকশা চালান। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন তারা।

আলমগীর করিম নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসার কাজে বনপাড়া যেতে হবে। এসে দেখি বাসসহ কোনো যানবহন চলছে না। খুব বিভ্রান্তির মধ্য পড়ে গেছি। যেভাবে হোক আমাকে বনপাড়ায় পৌঁছাতেই হবে। এক অটোরিকশা চালকে বললাম সে ৪০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। যেখানে বাসে ৪০ টাকা ভাড়া। কিছুদিন পর পর কীসের সব ধর্মঘট হয় বুঝি না। আমরা সাধারণ মানুষ কাজ করে যে খাবো তাও পারি না।’

বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ পোদ্দার বলেন, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ ও জ্বালানি তেলসহ ১০ দফার দাবিতে আমাদের ধর্মঘট চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর মহাসড়কে নসিমন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন ও পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ১০ দফা দাবি পূরণে সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ১৭টি সংগঠন। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ে দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধর্মঘটে যায় সংগঠনগুলো।

এদিকে আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, অন্যান্য বিভাগীয় গণসমাবেশের মতো রাজশাহীর গণসমাবেশে মানুষকে আসতে বাধা দিতে এ পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কিন্তু যতই ধর্মঘটের ডাক দিক না কেন রাজশাহী বিএনপির সমাবেশ জনস্রোতে পরিণত হবে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।