ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ডামুড্যায় মায়ের হত্যাকারী বাবার ফাঁসির দাবিতে সন্তানের মানববন্ধন

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পারিবারিক কলহের জেরে আমেনা বেগম নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মায়ের হত্যাকারী পাষণ্ড বাবা নজরুলের ফাঁসির দাবিতে সড়কে ছোট্ট শিশু সন্তান নয়ন (১২) সহ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন নিহতর পরিবার এবং ইসলামপুর ইউনিয়নবাসী।

 

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার বুড়িরহাট বাজার সংলগ্ন বুড়িরহাট ব্রিজের ওপর ঘন্টাব্যাপি এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়।

 

এসময় নিহত আমেনার ছেলে নয়ন মাদবর, ভাই সুলতান মাদবর, আমিন মাদবর, ভাবি মনোয়ারা বেগম, ইসলামপুর ইউনিয়নের রিয়াদ মাদবর, মজিদ মাদবর, মেম্বার আলতাফ হোসেন ব্যাপারীসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

 

নিহত আমেনা বেগমের ছেলে নয়ন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা আমার মাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার এখন এই দুনিয়াতে কেউ নেই। আমার মাকে নিঃসংশ ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারী খুনি পিতার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। কি দোষ করেছিল আমার মা যেভাবে তাকে জীবন দিতে হলো। এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছোট্ট শিশু নয়ন।

 

মানববন্ধনে নিহত আমেনা বেগম এর ভাই সুলতান মাদবর বলেন, আমার বোনকে বিয়ে দেয়ার পর টাকা খরচ করে (মালয়েশিয়া) বিদেশ পাঠাই খুনি নজরুলকে। বিদেশ যাওয়ার পর ৭ বছর বোনকে কোন খরচ পাঠাননি নজরুল। আমরা খরচ দিতাম। বোনকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতো। তাই নজরুল বিদেশ থেকে আসার আগে বোনকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। নজরুল বিদেশ থেকে ফিরলে এলাকার মুরব্বি ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে আমেনাকে নিয়ে যায়। বাড়িতে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে টর্চার করতো বোন আমেনাকে। ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখতো। গতকাল ঘরের দরজা বন্ধ করে নজরুল কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বোন আমেনাকে। আমার বোনের হত্যাকারী নজরুলকে ফাঁসি দেয়া হোক।

মজিদ মাদবর, মেম্বার আলতাফ হোসেন, রিয়াদ মাদবর সহ ইসলামপুর ইউনিয়নবাসীর অনেকেই জানান, আমেনা খুবই ভালো একজন নারী ছিলেন। আর নজরুল একজন মাদকাসক্ত। আমেনাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মানববন্ধনে উপস্থিত সবাই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন।

 

উল্লেখ্য, শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পারিবারিক কলহের জেরে আমেনা বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করে স্বামী নজরুল ইসলাম মাদবর। ১৫ বছর আগে ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মৃত হোসেন মাদবরের ছেলে নজরুল ইসলাম মাদবরের (৪২) সঙ্গে একই ইউনিয়নের গঙ্গেসকাঠি গ্রামের মৃত আজিদ আলী মাদবরের মেয়ে আমেনা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের নয়ন মাদবর নামে ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

 

গতকাল (১৬ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার সকালে হত্যাকাণ্ডের সময় নজরুল ইসলামের একতলা ভবনের কক্ষে তার স্ত্রী ছাড়া কেউ ছিল না। এ সুযোগে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে আমেনাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ফেসবুক লাইভে আসেন নজরুল। লাইভে তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে খাটের ওপর তোশক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় দেখান। এক পর্যায়ে তাকে গাইতে শোনা যায়, ‘আমার খাইয়া, আমার পইরা ডুব দিছে ভাই অন্যজনরে।’

 

লাইভ দেখার পর বিষয়টি জানাজানি হলে নজরুল ইসলামের মা আনার কলি (৮০), ভাগনি সোহাদি আক্তার (২৫), ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আছিয়া বেগমসহ (২৩) প্রতিবেশীরা দরজা পেটাতে থাকেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম দরজা খোলেননি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে দরজা খুলে তাকে গ্রেফতার করে এবং আমেনা বেগমকে উদ্ধার করে।

 

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম আশরাফুজ্জামান জানান, হত্যাকারী স্বামী নজরুলকে ঘটনার এক ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যায় ব্যবহৃত ধাঁরালো কুড়াল উদ্ধার করা হয়। নিহত আমেনার ভাই মো. সুলতান মাদবর বাদী ডামুড্যা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর ৬ ঘন্টার মধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহন করা হয়। তাছাড়া ২৪ ঘন্টার মধ্যে লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রাপ্তি হয়।


error: Content is protected !!