ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইউএনওর উপর বর্বরোচিত হামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

গ্রেপ্তার আসাদুল হক। ছবি : ভোরের সংবাদ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা ওমর আলী শেখকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ দল। আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে হিলির কালিগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুরে।

এদিকে এর আগে এ ঘটনায় অপর একজনসহ সন্দেহভাজন জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করা হয়। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ ফেরদৌস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা এবং র‌্যাব রংপুরের একটি দল যৌথভাবে শুক্রবার ভোররাত ৪টা ৫০মিনিটে হিলির কালিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার প্রধান আসামি ইউএনওর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত সে-ই করেছে। তাঁকে রংপুরে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড়ভাই ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমীরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা ওমর আলী শেখকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা।

গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মই বেয়ে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে। তারা বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে শুরু করে। এ সময় ইউএনওর চিৎকার শুনে পাশের কক্ষে থাকা তাঁর বাবা ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকেও আঘাতে জখম করে। পরে কোয়ার্টারের অন্য বাসিন্দারা তাদের চিৎকার শুনে পুলিশকে খবর দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় আনা হয়। তাঁর বাবা রংপুরে চিকিৎসাধীন।

ইউএনও ওয়াহিদা খানম এখন রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচার শুরু হয়। আড়াই ঘণ্টা পর এ জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, নওগাঁ থেকে মাঝেমধ্যে মেয়ে ওয়াহিদা খানমের বাসায় বেড়াতে যেতেন তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলী শেখ। ওয়াহিদা খানমের স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জে ইউএনও হিসেবে কর্মরত আছেন।


error: Content is protected !!