ঢাকা, রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রামগড়ে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

রামগড় ,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
জেলার রামগড়ে বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুল চাষ হচ্ছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী হওয়াতে রামগড় কৃষি অফিসের সহায়তায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পরীক্ষামূলক ভাবে কৃষক প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩ হেক্টর জমিতে এই ফুলের আবাদ করা হয়।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাকাপ, দাতারাম পাড়া, লাচারীপাড়া ও ফেনীর কুল চর সহ বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক ভাবে ২০ জন কৃষক ২০ বিঘা জমিতে কৃষক প্রণোদনা প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে রামগড় উপজেলাতে প্রাথমিকভাবে মোট ৩ হেক্টর জমিতে এই ফসলের পরীক্ষা মূলকভাবে চাষ করা হয়েছে। তবে সূর্যমুখী ফুল থেকে স্থানীয় পর্যায়ে তেল শোধনের ব্যবস্থা করা গেলে সূর্যমুখী চাষাবাদে কৃষকরা আরো উৎসাহী হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

 

 

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম ফয়সাল জানান, সূর্যমুখীর তেল মানব দেহের ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নাই এ তেল অন্যান্য সাধারণ তেলের চেয়ে একটু আলাদা। কোলেস্টেরল মুক্ত সূর্যমুখীর তেলে প্রচুর পরিমাণে প্রাণ শক্তি থাকায় এটি আমাদের শরীরের দুর্বলতা কমায় ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রান্নার জন্য সয়াবিন তেলের চেয়ে সূর্যমুখীর তেল দশ গুণ বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ। শরীরের হাড় সুস্থ ও মজবুত করে। সূর্যমুখীর তেল হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগীর জন্যও নিরাপদ, ক্যানসার প্রতিরোধক । দূর করে মানসিক চাপ এবং সূর্যমুখী তেলে থাকা ভিটামিন- ই ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। এক কথায় সূর্যমুখী তেল মানব দেহের মহৌষধ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

 

 

জাপান ফেরত প্রবাসী ক্যশাই মার্মা জানান, কৃষি অফিসের প্রণোদনা পেয়ে উৎসাহিত হয়ে এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখির চাষ করেছি । সূর্যমুখী একদিকে মনোমুগ্ধকর অন্যদিকে লাভ জনক ফসল। প্রথম বারই ভাল ফলন হয়েছে আগামীতে আরো বেশি পরিমানে আবাদ করার পরিকল্পনা করেছি।

 

লাচারী পাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা চিং থোয়াই মগ জানান, ধান-পাট চাষে প্রচুর পরিশ্রম এবং খরচ হয় কিন্তু সূর্যমুখী চাষে খরচ কম লাভ বেশি। যে কারণে আগামীতে অনেক কৃষকই সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকবে।

 

রামগড় উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফ উল্যাহ বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম। এতে সার-ঔষধ কম লাগে। তেমন পরিচর্যাও করতে হয় না। কৃষি অফিসের সার্বিক ত্বাবধানে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রনোদনা দেয়া হয়েছে।

 

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাশেদ চৌধুরী জানান, পুষ্টি চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী তেলের জন্য বিদেশ থেকে এর বীজ আমদানি করতে হয়। দেশে এর আবাদ করা গেলে আর আমদানি করা লাগবে না। তিনি বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দুবার সেচ দিতে হয় এ ফসলে। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমির উৎপাদিত বীজ থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ও সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


error: Content is protected !!