ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার হারবার ব্রিজের আদলে ব্রীজ হচ্ছেদেশে, প্রকল্পটি একনেকে উঠছে কাল

সারা পৃথিবী বিখ্যাত ব্রিজগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি হারবার ব্রিজ’। এবার একই আদলে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর। ১১শ মিটার দীর্ঘের এ ব্রিজটি দেখতে ধনুকের মতো হবে। নদীর মধ্যে কোনো পিলার থাকবে না। এটাকে দেশের প্রথম মডেল ব্রিজ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।

 

প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রকল্পে চীনের নেতৃত্বাধীন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ সহায়তা ১ হাজার ৯৩০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

 

জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২৫ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহে ‘কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

 

জানা গেছে, এ প্রযুক্তির এ স্টিল আর্চ (ধনুক) ব্রিজ নির্মাণ তদারকির জন্য ৮৫২ জন মাস পরামর্শক সেবা ক্রয়ের জন্য ৮১ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, পরামর্শকের কর্মপরিধি ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) সংযুক্ত করা হয়নি। পরামর্শক সেবার ব্যয় অত্যাধিক বলে দাবি করেছে পরিকল্পনা কমিশন। ব্যয় কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সুপারিশ করা হয়েছে।

 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৩৩ দশমিক ২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৪৫৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং পুনর্বাসনের জন্য ৯০ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রাক্কলিত ব্যয়ের ভিত্তি এবং পুনর্বাসন ব্যয়ের পরিকল্পনা ডিপিপিতে সংযুক্ত করা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় ১০ দশমিক ৬৪ লাখ ঘন মিটার মাটির কাজের জন্য ৭৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপিতে সমজাতীয় প্রকল্পের তুলনামূলক বিবরণীতে অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় এ প্রকল্পে মাটির কাজের একক ব্যয় অধিক দেখানোর যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

 

বৈদ্যুতিক সুবিধাদিসহ সড়ক বাতির জন্য ১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড রেস্ট এরিয়ার জন্য ১০ কোটি এবং রোড মার্কিং, সাইন, সিগন্যাল, ব্যারিয়ার, গার্ড রেইল ইত্যাদির জন্য ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

এ খাতগুলোর ব্যয় বেশি ধরা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। ফলে এসব খাতের ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

প্রকল্পের আওতায় জেনারেল অ্যান্ড সাইট ফ্যাসিলিটিজ খাতে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে আবাসিক ভবনসহ যানবাহন ভাড়ার সংস্থান রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর প্রকল্পের আওতায় জেনারেল অ্যান্ড সাইট ফ্যাসিলিটিজ খাতের ব্যয় ১০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং এর বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন ডিপিপিতে দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে কমিশন।

 

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১৩ জন জনবল নিয়োগের জন্য বেতন ও ভাতাদি খাতে ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২শ জন মাস জনবল আউট সোর্সিংয়ের জন্য ২ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

প্রস্তাবিত জনবলের বিষয়ে অর্থ বিভাগের পদ, জনবলের সংখ্যা, ধরণ নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ প্রকল্পে সংযুক্ত করা হয়নি। অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির সুপারিশের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

 

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১১শ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ, ওভারপাস ও এসএমভিটি লেনসহ ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার পৃথক সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি জেলাসহ এ অঞ্চলের স্থলবন্দর, ইপিজেড এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ সহজতর হবে।


error: Content is protected !!