ঢাকা, সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গরু নিয়ে খামারীরা ঢাকার হাটে, অপেক্ষা বিক্রির

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারী ও ব্যবসায়ীরা রাজধানীর খিলক্ষেত ৩০০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন গরু ছাগল হাটে ক্রেতাদের আশায় সময় পার করছেন। এখনো ক্রেতাদের সমাগম তেমন শুরু হয়নি। ফলে পশু বিক্রিও চোখে পড়েনি। অল্পস্বল্প ক্রেতা এসে দর-দাম করছেন। তবে শুক্রবার জুমার নামাযের পর থেকে কেনা-বেচা বাড়বে বলে আশা বিক্রেতাদের।

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত বিশাল আয়তনের এই হাটে কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মানার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখলেও ক্রেতাদের সমাগম কম হওয়া সত্ত্বেও বিক্রেতারা নিজেরায় স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। নিজেরা দলাদলি করে জটলা পাকিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন, অধিকাংশের মুখে নেই মাস্ক। যাদের মাস্ক আছে তাদেরও বেশীর ভাগ থুতনি ও গলায় ঝুলিয়ে রেখেছেন। আবার অনেকে তাস খেলতেও দেখা গেছে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিনে এই হাটে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্তৃপক্ষ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কড়াকড়ির থাকলে সবাই বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। এ ছাড়া সরকারি নিদের্শনা মতে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গরু-ছাগল বিক্রি করার কথা রয়েছে। ফলে এখন যেসব ক্রেতা আসছেন বলা যায় পশু দেখতেই আসছেন।

 

দেখা গেছে, হাটে মাইকিং করে ক্রেতা বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ যেকোনো ধরণের প্রতারণা থেকে দূরে থাকতেন সতর্কবাণী দিচ্ছেন। এ ছাড়া যেকোনো সমস্যায় কর্তপক্ষের সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানাচ্ছেন। হাটে গরু ছাগলে গোসল, বিক্রেতাদের খাবারের ব্যবস্থা ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকে আবার নিজেরায় রান্না করে খাচ্ছেন। অনকে আবার গরু বেধে রাখার তাবুর পাশেই খড়ের বস্তায় ঘুমাচ্ছেন। আর কতক্ষণ পর পরই মূল গেট দিয়ে ট্রাকে করে গরু ঢুকছেন। আর সারিবদ্ধভাবে জায়গায় গরু রাখছেন।

 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদ পুর থেকে বুধবার রাতে ৪৬টি গরু নিয়ে এসেছেন খামারী হারুন মিয়াসহ প্রায় ২০ জন। এখন পর্যন্ত একটি গরু বিক্রি করতে পারেননি। তবে দর-দাম হচ্ছে বলে জানান। একজোড়া গরু দেখিয়ে বললেন, এই জোড়া সাত লাখ দাম হাকাচ্ছে। সাড়ে আট লাখ হলে ছেড়ে দিব।’ একদিনে হারুন কাউকে গরু বিক্রি করতে দেখেননি বলে জানান।

 

পাবনা সদর থেকে নিজের পালন করা চারটি গরু নিয়ে আসেন আরিফসহ পাঁচ জন। এখন পর্যন্ত একটি বিক্রি করতে পারেননি। তার মতে ঈদের দুই একদিন আগে ছাড়া তেমন বিক্রি হবে না। আহলে এতো আগে হাটে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে না আসলে সুবিধামতো জায়গা পাওয়া যাবে না। এখন মোটামুটি ভালো পজিশনে তাবু বানাইয়া গরু রাখতে পারছি।

 

নওগাঁর সাপাহার থেকে ব্যবসায়ী মাসুদ রানা গত মঙ্গলবার ৩৫টি ছাগল নিয়ে এসেছেন এই হাটে। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ছাগল ১৬ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তবে আশা করছেন শিগগির বাজার জমে উঠবৈ। এখন বাজার না জমার কারণ হিসেবে মাসুদ বলেন, ‘ঢাকায় তো মনে করেন, গরু-ছাগল রাখার জায়গার সমস্যা। তাই বেশীর ভাগ লোক কুরবানির দুই একদিন আগে গরু ছাগল কেনে।’ স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে মাসুদ বলেন, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে সমস্যা হয়। তাই হয়তো সবাই মাস্ক পরে না। আর কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো নজরদারি রাখলে অবশ্যই মাস্ক পরতে সবাই বাধ্য বলে জানান তিনি।

 

গত সোমবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলা থেকে মো. রশিদ নামে এক খামারী পাঁচটি গরু নিয়ে এসেছেন গতকাল বিকেল পর্যন্ত এ চারদিনে দর-দাম হলে একটি গরুও বিক্রি করা হয়নি। একটি গরু দেড় লাখ দাম করেছে, সেটি একলাখ ৮০ হাজারের কমে বিক্রি করবেন না বলে জানান। তবে রশিদ আশাবাদী শনি-রবিবার থেকে বিক্রি শুরু হবে।

 

চুয়াডাঙ্গার বদরগঞ্জের ইব্রাহীম মিয়া বলেন, ১৩টা গরু নিয়া আসছি। এখনো ক্রেতাদের সমাগম না থাকায় বিক্রি শুরু হয়নি। তবে শুক্রবারের পর থেকে বিক্রি শুরু হবে বলে তার ধারণা। মুখে মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে কোনো জবাব দেননি।

 

খিলক্ষেত বাজার এলাকার বাসিন্দা ওই হাটের ক্রেতা ইসমাঈল হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের মাঝারি সাইজের দুটো গরু লাগবে। আজকে চারজন আসছি হাটের পরিস্থিতি দেখছে। মূলত সোমবারের দিকে গরু কেনার ইচ্ছা। এরপরও দাম-ধরও করছি। মিলে গেলে কিনে ফেলব।

 

হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের মাইকের উপস্থাপক খোরশেদ আলম জাহিদ বলেন, আমরা প্রায় ২৪ ঘণ্টায় রাউন্ডিং কইরা কয়েকজন মাইকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক দিক নির্দেশনা দিচ্ছি। সার্বক্ষণিক বুথে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। তারপরও যদি কেউ স্বাস্থ্যবিধি যদি না মানে আমাদের কী করার আছে। তবে ক্রেতা বাড়লে নজরদারি আরো কঠোর হবে।

 

কী পরিমাণ গরু ছাগল এই হাটে তোলার ধারণ ক্ষমতা ব্যবস্থা করা হয়েছে জানতে চাইলে ভলান্টিয়ার মাজহারুল ইসলাম বলেন, ২০ হাজারের অধিক গরু ছাগল এই হাটে তোলা সম্ভব। যেহেতু বিশাল পরিমাণে জায়গা আছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে তিনি বলেন, শনি-রবিবার থেকে বেচা কেনা যখন ভরপুর শুরু হইবো। তখন এক রাস্তা দিয়া প্রবেশ অন্য রাস্তা দিয়া হাট থেকে বের হতে হবে। এ ছাড়া মাস্ক পরাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রশাসন আরো কড়াকড়ি থাকবে।

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, হাটের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে আমাদের কঠোর নির্দেশনা আছে। সেখানে আমাদের মনিটরিং টিম আছে। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আমরা হাটের ইজারা বাতিল করবো।


error: Content is protected !!