ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে ড্রাগন ফল বিক্রি করতে না পারায় হতাশ চাষীরা

অনুপ দত্ত তালুকদারের ড্রাগন ফলের বাগান

এম জামান রাজ,স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি :  বহুমুখী পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ বিদেশি এক ফলের নাম ড্রাগন। দক্ষিণ আমেরিকার গভীর অরণ্যে এই ফলের জন্ম হলেও বর্তমানে দিন দিন সাড়া পৃথিবী জুড়ে এই ফলের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানেও এই পুষ্টিকর ফল ড্রাগনের চাষ দিন দিন বেড়ে চলছে। বিভিন্ন এলাকার ড্রাগন চাষীদের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে ড্রাগন চাষ করেছেন খাগড়াছড়ির পানছড়িতেও। তবে ফলন ভালো হলেও ক্রেতা না থাকায় হতাশায় ড্রাগন চাষী।

পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের সভাপতি অধ্যক্ষ সমির দত্ত চাকমা জানান, কুটিরে ২০১৭ সালে ভান্তেদের (ধর্মীয়গুরু) তত্বাবধানে প্রথমে পরীক্ষামুলক ১০০ চারা লাগিয়ে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। প্রাথমিক অবস্থায় তেমন সফলতা না পেলেও পরবর্তী কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তাদের সহযোগীতা ও পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক অনুপ দত্ত তালুকদারের পরামর্শে এখন কুটিরে ৬০ শতক ভুমিতে এক হাজারের উপর ড্রাগন ফলের গাছ আছে। ফলন ভালো হলেও মহামারি করোনা ছোবলে বাজারে বিক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল আই তে সম্প্রসারিত শায়খ সিরাজের কৃষি সমাচার দেখে অনুপ্রানিত হয়ে, উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মধ্য শান্তিপুর গ্রামের অনুপ দত্ত তালুকদার (সিনিয়র শিক্ষক) ড্রাগন ফলের বাগান করেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে ৪০ শতক জমিতে ড্রাগন চারা কলম রোপন করি। পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য অনুকূলে থাকার কারণে ইতি মধ্যে ড্রাগনের চারাগুলো বেশ পরিপক্কও হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ৭০০ গাছ আছে,প্রতিটি গাছেই গত বছর থেকে ফলন দিচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থান হতে প্রতিদিন ড্রাগন ফলের জন্য অনেকেই ছুটে আসতো এখন করোনার পাদুর্ভাবে লকডাউনের কারনে বিক্রিয় কমে গেছে। এছাড়াও কিছুদিন পুর্বেও ড্রাগন ফলের পাশাপাশি অতিরিক্ত ডালপালা থেকে নতুন চারা তৈরী করে প্রায় হাজার তিনেক ড্রাগন চারা বিক্রয় করেছি।

 

১২ থেকে ১৮ মাস বয়সি গাছ হতে ৫ থেকে ২০টি ফল উঠানো যায়। তবে প্রাপ্ত বয়স্ক ১টি গাছ থেকে বছরে দেড় শতাদিক ফল পাওয়া যায়। এক একটি গাছ বিশ বছর ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি ফল ২ শত গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়। গ্রীস্মের শুরুতেই ফলন শুরু হয় এবং ৬-৭ মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। ড্রাগন গাছে তেমন রোগ বালাই না থাকার কারণে বাগানে খরচও কম হয়ে থাকে। এতে করে অল্প খরচে অধিক লাভের আশা করা যায়। রাতের বেলায় বৈদ্যুতিক কৃত্রিম আলো দেওয়া হলে ড্রাগন ফলন বেশী হয় বলে জানালেন ড্রাগনফল চাষী ও শিক্ষক অনুপ দত্ত তালুকদার ও অরণ্য কুটিরের ড্রাগন বাগান তত্বাবধানকারী সিন্ধু ময় চাকমা।

 

পানছড়ি উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা অরুনাংকর চাকমা বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে পার্বত্য অঞ্চলেও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৩৫০- ৪৫০ টাকায় ,প্রতি ড্রাগন ফলেল চারা ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। বাগানে কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার ও বার্মি কম্পোস্ট এবং ছত্রাক নাশক ব্যবহারে গাছে ফুল-ফল কিভাবে বৃদ্ধি পাবে তা উপজেলা কৃষি অফিস পরামর্শ দিয়ে থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম মজুমদার বলেন,পাহাড়ে ক্রমান্বয়ে ড্রাগন ফলের উৎপাদন বাড়ছে। এতে করে দেশে পুষ্টি যোগানের পাশাপাশি এই পুষ্টিগুণ ভরপুর ড্রাগন বিদেশেও রপ্তানীর সুযোগ রয়েছে। মহামারি করোনায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিপাকে আছেন চাষীরা।


error: Content is protected !!