ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বর্ষকালীন সবজির চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন জাজিরার কৃষকরা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে আগাম বর্ষকালীন সবজির আবাদ। অন্য মৌসুমের তুলনায় বর্ষকালে সবজির সমাহার কম থাকায় কৃষক তুলনামুলক বেশি দাম পেয়ে থাকেন। তাই তুলনামুলক উচু শ্রেনীর জমিতে উপজেলার কৃষকরা বর্ষাকালীন আগাম সবজি আবাদ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন। এ বছর উপজেলায় ৯১০ হেক্টর জমিতে আগাম বর্ষাকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও ভাল ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জামাল হোসেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে জানিয়েছেন, প্রতি বছরই আগাম বর্ষাকালীন সবজি আবাদ করে অন্য মৌসুমের তুলনায় বেশী লাভবান হয়েছেন জাজিরার সবজি চাষীরা। যে কারনে প্রতি বছরই আগাম বর্ষাকালীন সবজির আবাদ বাড়ছে। গত বছর জাজিরায় ৮৫০ হেক্টরে আগাম বর্ষাকালীন সবজি আবাদ হয়েছিল। এ বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯১০ হেক্টর হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আগাম সবজি আবাদ করেছেন কৃষক। ইতোমধ্যে বাজারে সবজিও আসতে শুরু করেছে। আগাম বর্ষাকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ধুন্দল, শশা, লাল শাক, লাউ, কাকরল ও বেগুনসহ নানা সবজি। ভাল ফলন পেতে কৃষককে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।

উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের মিরাশার গ্রামের মো: আব্দুস সালাম খান জানান, প্রতি বছরই আমরা আগাম বর্ষাকালীন সবজি আবাদ করে বেশি লাভবান হই। বর্ষার সময় অধিকাংশ জামিতেই পানি ওঠে বিধায় সবজায়গায় সবজির আবাদ না হওয়ায় বাজারে সংকট থাকে। যে কারনে বর্ষা মৌসুমে সবজির দামও থাকে বেশি। আমাদের এই অঞ্চলটা একটু উঁচু হওয়ায় এই সুযোগটা আমরা কাজে লাগাই। সবজির ভাল ফলন হলে অন্য সময়ের তুলনায় আমরা অধিক লাভবান হই। এ বছর আমি ৫০ হাজার টাকা খরচ করে এক বিঘা জমিতে শশা আবাদ করেছি। কোন প্রাকৃতিক সংকট না হলে তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারব।

মিরাশার বহুমুখি সমবায় চাষী বাজারের পাইকার মো: আব্দুল জলিল মাদবর জানান, মৌসুমী সবজির যে বাজার দর থাকে তার চেয়ে আগাম বর্ষাকালীন সবজির দাম গড়ে কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা বেশি থাকে। বর্ষাকালে বাজারে সবজির সমাহার অনেক কম থাকায় দাম একটু বেশি থাকে। এই সময় যে সকল কৃষকরা সবজি উৎপাদন করতে পারে তারা অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হন।


error: Content is protected !!