ঢাকা, রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংবিধানের ‘পঞ্চদশ সংশোধনী’ বাতিল ও সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে পানছড়িতে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি :
বাঙালি জাতীয়তা’ মানি না, লড়াই চলছে, চলবে” শ্লোগানে সংবিধানের ‘পঞ্চদশ সংশোধনী’ বাতিল ও সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে পানছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

৩০ জুন ২০২৪, রবিবার সকাল ১১ টায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ,গনতান্ত্রিক যুব ফোরামও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের ব্যানারে উপজেলার লোগাংইউনিয়নের বাবুড়া পাড়া রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে সিমান্ত সড়কের তিন রাস্তার মোড়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

 

মিছিল ও সমাবেশে বিভিন্ন শ্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড সহ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বীর বাহাদুর ও দীপংকর তালুকদারের ছবি ও পঞ্চদশ সংশোধনী লেখার ওপর ক্রস চিহ্ন দিয়ে প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

 

 

সাবিনা চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রাখেন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি সভাপতি রিপন ত্রিপুরা , পিসিপির পানছড়ি উপজেলা সভাপতি সুনীল ময় চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক পরিণীতা চাকমা প্রমুখ।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুন চাকমা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরে দেশে সংবিধান রচিত হয়। শেখ মুজিব সেই সময়েও পাহাড়িদেরকে বাঙালি হয়ে যেতে বলেছিলেন। এম এন লারমা তার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘একজন বাঙালি কোনদিন পাহাড়ি হতে পারে না, তেমনি একজন পাহাড়িও কোনদিন বাঙালি হতে পারবে না’। বর্তমানে তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনা পিতার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছেন। আইনের মাধ্যমে আমাদেরকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাই এর বিরুদ্ধে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে প্রতিবাদ করতে হবে।পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর জীবন যাত্রা থেকে বুঝা যায় পাহাড়িরা আজ কোন অবস্থায় রয়েছে। একদিকে উগ্রবাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেয়া অন্যদিকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পরে পাহাড়ে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ নেয়। এসব বাস্তবতা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। পাহাড়িরা যাবে কোথায় ? যে রাষ্ট্রে পাহাড়িদের অধিকার পাওয়ার কথা, সেই রাষ্ট্র পাহাড়িরা নানা বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হচ্ছে। পাহাড়িদের জাতিগত পরিচয় বিলুপ্ত করে দিতে ২০১১ সালে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী এনে তা সংসদে পাস করা হয়েছে। এই পঞ্চদশ সংশোধনীতে পাহাড়িদের ওপর বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দেয়া হয়।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা পার্বত্য চুক্তি করে ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু সরকার এখন পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণমন্ত্রীর বদলে প্রতিমন্ত্রী দিয়ে চুক্তির বরখেলাপ করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান ৭২ সালে বাঙালি বানিয়েছেন, তার মেয়ে শেখ হাসিনা ২০১১ সালে বাঙালি বানিয়েছেন। এখন আবার শেখ হাসিনা ১৯০০ সালের রেগুলেশন আইন বাতিল করে দেয়ার চক্রান্ত করছেন। সরকার আমাদের পাহাড়িদের ধ্বংস করার জন্য নানা পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রথাগত হেডম্যান, কার্বারী, রাজা পদবী বিলুপ্ত করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের টিকে থাকতে হবে। আমরা কোনদিন বাঙালি হতে পারবো না। বাঙালি জাতীয়তাবাদ আমরা মানতে পারি না। আমরা নিজ নিজ জাতিগত পরিচয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

 

সভার সভাপতি বলেন, বৃষ্টির মধ্যেও এই সমাবেশে আপনাদের উপস্থিতি প্রমান করে যতই কালাকানুনের মাধ্যমে আমাদেরকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হোক না কেন পূর্ণস্বায়ত্তশাসন আদায় না হওয়া পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া স্বাধিকার আদায় করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে পার্বত্য চট্টগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সকল আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলে যে কোন ষড়যন্ত্র ও পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ইউপিডিএফের পতাকাতলে সমবতে হতে সকলের প্রতি আহবান জানান।


error: Content is protected !!