ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত চেয়ারম্যান নির্বাচনে পরাজিত 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ, নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর শরীয়তপুরের চিতলিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে হারুন-অর-রশিদকে (নৌকা প্রতীক)  বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়েছিলেন রির্টানিং কর্মকর্তা।
স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। তদন্ত শেষে স্বাক্ষর জাল প্রমানিত হওয়ায় চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৮ নভেম্বর দুপুরে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব আতিয়ার রহমান এ সংক্রান্ত চিঠিতে স্বাক্ষর করে নির্বাচন স্থগিত করেছিলেন।
পুনরায় গতকাল ১৫ জুন চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে পরাজিত হন হারুন-অর-রশিদ। তবে এই নির্বাচনে কোন দলীয় প্রতীক ছিল না।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চিতলিয়া ইউপিতে গত ১১ নভেম্বর ভোট হওয়ার কথা ছিল। ওই ইউপিতে ৪৮ প্রার্থী সদস্য পদে এবং ১২ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন এবং তাদের মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৯ জন সাধারণ সদস্য ও ৯ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে তাদের মনোনয়নপত্র গত ২৬ অক্টোবর প্রত্যাহার করে নেন। তবে ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের দিন অন্তত ২০ জন প্রার্থী কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেননি বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। তখন ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আলমগীর হোসেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, চিতলিয়া ইউনিয়ন মোট ভোটার ১১ হাজার ৮৮০ জন। পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৩৩২ ও নারী ভোটার ৫ হাজার ৫৪৮ জন। নির্বাচনে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ৬ হাজার ৬০৫। এরমধ্যে আব্দুস ছালাম হাওলাদার (আনারস প্রতীক) নিয়ে ৪ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হারুন-অর-রশিদ (ঘোড়া প্রতীক) নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১ ভোট। আর অন্য চার চেয়ারম্যান প্রার্থী পেয়েছেন ২৪৯ ভোট।
তিনি বলেন, চিতলিয়া ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন স্থগিত করেছিলেন ইসি। স্থগিত ইউনিয়নটিতে গতকাল ১৫ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আব্দুস ছালাম হাওলাদার বিজয়ী হন। পরাজিত হন হারুন অর রশিদ।
চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বিজয়ী চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম হাওলাদার বলেন, আল্লাহ চাইলে কেউ তাকে পরাজিত করতে পারেনা। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জোর করে চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিল, কিন্ত পারেননি।  ইউনিয়নের প্রিয় ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। আমি ইউনিয়নবাসীর সুখে দুঃখে পাশে থাকতে চাই।
এদিকে, পরাজিত প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ বলেন,
আমার বিজয় সুনিশ্চিত ছিল যদি ইভিএমে ভোট না নিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে নেয়া হতো। আমার ইউনিয়নের ভোটাররা ইভিএম বিষয় বোঝেন না। ভোটাররা ইভিএম না বোঝার কারণে এই সুযোগ গ্রহণ করে পোলিং এজেন্ট ও দায়িত্বরত কর্মকর্তরা আমার প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ছালাম হাওলাদারকে ভোট দেয়ায় আমি পরাজিত হয়েছি।
অন্যদিকে, জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর মো. আক্তার হোসেন বেপারী (মোটরসাইকেল), বি.কে. নগর আলহাজ্ব এসকান্দার আলী ভূঁইয়া (মোটরসাইকেল), বড় গোপালপুর মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার (আনারস), পালেরচর মো. আবুল হোসেন ফরাজী (চশমা), পূর্ব নাওডোবা মো. আলতাফ হোসেন খান (টেবিল ফ্যান) ও বিলাসপুর মো. কুদ্দুস বেপারী (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।