ঢাকা, শনিবার, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ঢাকা, শনিবার, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়ির পাহাড়ে লটকনের বাম্পার ফলন

পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের লটকন বাগান

স্টাফ রিপোর্টার ,খাগড়াছড়ি :
খাগড়াছড়ির পানছড়ির পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় মায়াবী হলুদ রঙ্গে সেজে আছে সুস্বাদু ফল লটকন। লটকনের পুরো গাছকে আগলে রেখেছে ফলগুলো। গাছের গুড়া থেকে শাখা-প্রশাখায়ও থোকায় থোকায় ঝুলছে লটকন। টক মিষ্টি এই ফলটিকে স্থানীয়দের ভাষায়- কুসুমগুলোঅ ,ভুভি আর লটকন যাই বলি না কেনো্ সবমিলে একটাই । বাড়ীর সৃজিত বাগানে লটকন গাছ নাই এমন সংখ্যাও কম। প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এ ফলের গাছ আছে । বাগানের লটকনের গাছগুলো হলুদ রঙে রঙিন হয়ে গেছে। পুরো এলাকায় এখন গাছভর্তি লটকন আর লটকন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সমতলেও যাচ্ছে লটকন।

 

এক সময় লটকনের চাহিদা না থাকায় তেমন গাছ ও বাগান নজরে না পড়লেও এখন পানছড়ি উপজেলায় দিন দিন বেড়ে চলেছে লটকনের চাষ। অনুকূল আবহাওয়া আর পাহাড়ের মাটি লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী তাই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বাড়ছে লটকন চাষের আগ্রহ। এরি মাঝে পানছড়ি বাজার সহ স্থানীয় বাজার গুলোতে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় লটকন। সমতলে ও শহরে লটকনের চাহিদা থাকায় মৌসুমী ব্যবসায়ীদেরও আনাগুনা বেশ।

 

শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চাকমা ও তারাবনের সুমন্ত চাকমা জানায়, পাহাড়ের ডিবিতে, ঝিরির পাশের লটকন গাছ বেশ ভালো হয়। মূলত: ঠাণ্ডা জায়গাতেই এটি বেশ ভালো হয়। এ বছর প্রচুর লটকন হয়েছে মোটা অংকের লাভের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানালেন তিনি। বেশ কয়েকবছর আগেও এই সুস্বাদু ফল চাষে কৃষকদের তেমন কোন আগ্রহ ছিলো না। তবে ব্যাপক চাহিদা আর ভালো মুনাফা দেখে চার -পাঁচ বছর ধরে পাহাড়ের চাষিরাও শুরু করেছেন এ ফলের চাষ। বাড়ির আশেপাশে,অনাবাদি জমিতে চাষীরা এখন এই ফলের চাষ করছে।

 

উপজেলা সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুনাঙ্কর চাকমা জানান, পানছড়িতে সরজমিনে ঘুরে দেখেছি। ফলন্ত লটকন দেখতে বেশ নজরকাড়া। প্রতিটি গাছেই ঝুলে আছে হাজার হাজার লটকন। চলতি মৌসুমে এখানে লটকনের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। এ ছাড়া এখানকার লটকন অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক মিষ্টি হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উপজেলার ধুদুকছড়ি ,তারাবন ,শান্তিপুর অরণ্য কুটির, যুগলছড়ি মিলিয়ে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে আছে বানিজ্যিক উদ্যেশ্যে লটকন চাষ। আশা করা যায়, এবারে উৎপাদিত ফলনের পরিমাণ প্রায় ৫০ মেট্রিক টন হবে ।তবে দাম ও চাহিদার সাথে সাথে দিন দিন আবাদের পরিমাণ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম মজুমদার জানান, লটকন নরসিংদী, গাজীপুর, নেত্রকোনা ও সিলেটে বেশি চাষ হলেও পার্বত্য এলাকার মাটি লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষকদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যার ফলে পাহাড়ে দিন দিন লটকনের চাষাবাদ বাড়ছে।

 

খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মালেক বলেন, পাহাড়ে খুব কম খরচে লটকন চাষ করা যায়। বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষে অনেক লাভবান হওয়া যায়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় কয়েক বছর ধরে ব্যাপক পরিমাণ এর চাষ হচ্ছে। পাহাড়ের লটকন অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণ সুস্বাদু ও সম্পূর্ণ ফরমালিনমুক্ত। পাহাড়ে লটকন গাছে গত বছরের মতো এবারও ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি চাষিই প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেছেন। এই লটকনের বাগানের টাকায় অনেকেই সংসার চালাচ্ছেন।


error: Content is protected !!